তথ্য উপদেষ্টা
চীনের জে-১০ সিই যুদ্ধবিমান কিনছে সরকার

সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান
এক বছর আগে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের সময় চীনের তৈরি যে যুদ্ধবিমান উঠে এসেছিল আলোচনায়, তা কিনতে যাচ্ছে বাংলাদেশ।
জে-১০সিই মডেলের এই যুদ্ধবিমান কেনার খসড়া চুক্তিপত্র এরই মধ্যে চূড়ান্ত হয়েছে বলে জানালেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।
আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি। একই সঙ্গে জানান চীন থেকে এই যুদ্ধ বিমানসহ বিভিন্ন প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কেনার কথা।
উপদেষ্টা আরও বলেন, ‘এই অর্থবছরে বাজেট পাওয়া গেলে এসব কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে। তা সম্ভব না হলে পরবর্তী বাজেটে চলে যাবে।’
কত টাকায়, কতসংখ্যক যুদ্ধবিমান কেনা হচ্ছে, সে বিষয়ে কিছু বলেননি তিনি। তবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে চীনের ২০টি যুদ্ধবিমান কেনার একটি আলোচনা শুরু হয়েছিল, তখন খরচের হিসাব করা হয়েছিল ১৫ হাজার কোটি টাকা।
উপদেষ্টা জাহেদ জানান, বিমানবাহিনীর আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে চীনের তৈরি বিভিন্ন মডেলের চতুর্থ প্রজন্মের এমআরসিএ ফাইটার এয়ারক্রাফট, অ্যাটাক হেলিকপ্টার, ভিআইপি হেলিকপ্টার ও ইউএভি সিস্টেম কেনার প্রক্রিয়া চলমান।
পাকিস্তানের বিমানবাহিনীর বহরে রয়েছে জে-১০সিই যুদ্ধবিমান। গত বছর যুদ্ধে ভারতের রাফাল যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করতে এই বিমানই ব্যবহার করেছিল দেশটি।
সেই প্রসঙ্গ তুলে জাহেদ বলেন, ‘ভারত-পাকিস্তানে যখন যুদ্ধ হচ্ছে, ভারতের রাফাল ডাউন হয়েছিল, সেটা করেছিল চায়নিজ জে-১০। এই তথ্য এখন প্রতিষ্ঠিত। সুতরাং চায়নার তৈরি একটি মাল্টিরোল ফাইটার, এখন রাফালকে বলা হয় ৪.৫ জেনারেশনের সবচেয়ে আধুনিক ফাইটারগুলোর একটি, তার সঙ্গে কমব্যাট সিচুয়েশনে খুবই ভালো করেছে। সে কারণে বাংলাদেশ সেদিকে মনোযোগ দিয়েছে এবং আমরা এই পথে খুব ভালোভাবে এগিয়ে যাচ্ছি।’
রাফাল তৈরি করে ফ্রান্স। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকার সময় প্রায় দশককাল আগে বিমানবাহিনীর জন্য রাফাল, ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের ইউরো ফাইটার টাইফুন এবং যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি এফ-১৬ যুদ্ধবিমান কেনার আলোচনা হয়েছিল। তবে তা আর এগোয়নি।
ইউরোপ কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে চীনের যুদ্ধবিমান তুলনামূলকভাবে সস্তা, তাও সরকারের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছে।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, ‘সিমিলার কোয়ালিটির রাফাল বলি বা ইউরো ফাইটার টাইফুন বলি, ইউরোপিয়ান ভেরিয়েন্টের— তার তুলনায় চায়নিজ ফাইটারগুলোর দাম তুলনামূলকভাবে অনেক কম।’
তিনি জানান, এমআরসিএ (জে-১০ সিই) এবং অ্যাটাক হেলিকপ্টার সংগ্রহের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কমিটির মাধ্যমে নেগোসিয়েশন মিটিংয়ের খসড়া চুক্তিপত্র প্রস্তুত করা হয়েছে। তা অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ ও অন্যান্য মন্ত্রণালয়ে।
রাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা নিশ্চিতে চীনের যুদ্ধবিমান কেনার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে দাবি করেন জাহেদ উর রহমান।
তিনি বলেন, ‘আমরা দ্বিতীয় স্বাধীনতার কথা বলি, বলা হয় বাংলাদেশ নতুনভাবে স্বাধীন হয়েছে। প্রথম স্বাধীনতার সঙ্গে এটার কোনো তুলনাই নেই। এ বিষয়ে আমরা কোনো কনফিউশন রাখব না। তারপরও আমরা দ্বিতীয় স্বাধীনতা বলি— কারণ বাংলাদেশ বৈদেশিক নীতি-সামরিক নীতিতে কৌশলগতভাবে তার স্বার্থে সিদ্ধান্ত নিতে পারত না। আমরা জে-১০ ফাইটার কিনব বা এ বিষয়ে কোনো আলোচনা করব, এটা ৫ আগস্ট-পূর্ববর্তী সময় সম্ভব ছিল না। এ কারণেই আমরা দ্বিতীয় স্বাধীনতার কথা বলি।’




