রাজনৈতিক দলে থাকলে সম্মানী পাবেন না ইমাম মুয়াজ্জিন ও পুরোহিত

সংগৃহীত ছবি
রাজনৈতিক দলের সদস্য হলে মসজিদসহ দেশের ধর্মীয় উপাসনালয়গুলোর কর্তাব্যক্তিরা পাবেন না সরকারের দেওয়া সম্মানী। শুধু তা-ই নয়, নৈতিক স্খলন বা ফৌজদারি অপরাধে দণ্ডিত, রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত বা অসামাজিক ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলেও বন্ধ হবে সম্মানী ভাতা। এসব বিধান রেখে ধর্ম মন্ত্রণালয় জারি করেছে ‘মসজিদ ও অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিবর্গের জন্য সম্মানী ও কল্যাণ সহায়তা প্রদান নীতিমালা-২০২৬’।
গত রবিবার জারি হওয়া নীতিমালায় বলা হয়েছে, এই সম্মানী ভাতা পেতে কেউ ভুয়া তথ্য বা জাল সনদ ব্যবহার করলে সর্বোচ্চ যাবজ্জীবনকারাদণ্ড হতে পারে। একই সঙ্গে
জালিয়াতির মাধ্যমে নেওয়া অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত দিতে হবে। এ ছাড়া ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান থেকে বরখাস্ত বা পদত্যাগ করা, তথ্যের ক্ষেত্রে প্রতারণা প্রমাণিত হওয়া, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে কর্মরত না থাকলেও সম্মানী প্রাপক হিসেবে নির্বাচিত হওয়া, সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন সংস্থা বা প্রকল্প থেকে বেতন-ভাতা পাওয়া ব্যক্তিরা এই সম্মানী ভাতা পাওয়ার অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন।
বিএনপি সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে এর মধ্যে মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম ও অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের জন্য মাসিক সম্মানী ভাতা চালু হয়েছে। সে অনুযায়ী, মসজিদের ইমামদের প্রতি মাসে পাঁচ হাজার, মুয়াজ্জিন তিন হাজার ও খাদেমদের দুই হাজার করে টাকা সম্মানী দেওয়া হচ্ছে। একইভাবে মন্দিরের পুরোহিত ও সেবাইত, বৌদ্ধবিহারের অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষ এবং গির্জার পুরোহিত ও সহকারী পুরোহিতরাও পাচ্ছেন সম্মানী।
নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে পাইলট প্রকল্পের আওতায় দেশের ৬ হাজার ১৭টি নির্বাচিত ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের মোট ১৩ হাজার ৯৪৯ জনকে প্রথমবারের মতো সম্মানী ভাতা দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত ১৪ মার্চ রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। সে সঙ্গে এই মাসিক সম্মানী ও প্রশিক্ষণভিত্তিক কল্যাণব্যবস্থা চালু করার লক্ষ্যে একটি সেলও গঠন করা হয়। যার প্রধান প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসনবিষয়ক উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ।
সেলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে রাষ্ট্রীয় সম্মানী ভাতার আওতায় আনা হয়েছে আরও ৮৬ হাজার ৭০৯টি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে ৮২ হাজার ৬৫৬টি মসজিদ, ৩ হাজারটি মন্দির, ৭৫২টি বৌদ্ধবিহার ও ৩০১টি গির্জা রয়েছে। এসব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ২ লাখ ৫৬ হাজার ৭৪ জন ইমাম, মুয়াজ্জিন, সেবাইত ও যাজক রাষ্ট্রীয় এ সুবিধার আওতায় আসবেন। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নির্বাচনের ক্ষেত্রে নিম্ন আয়ের ও দুর্গম এবং দুর্যোগপ্রবণ এলাকার প্রতিষ্ঠানগুলো অগ্রাধিকার পাবে।
নীতিমালা অনুযায়ী, মন্দিরের পুরোহিত পাঁচ হাজার ও সেবাইত তিন হাজার, বৌদ্ধবিহারের অধ্যক্ষ পাঁচ হাজার ও উপাধ্যক্ষ তিন হাজার এবং গির্জার পুরোহিত পাঁচ হাজার ও সহকারী পুরোহিত তিন হাজার টাকা মাসিক সম্মানী পাবেন। একই পদে একাধিক ব্যক্তি থাকলে সংশ্লিষ্ট কমিটি তাদের মধ্যে একজনকে সম্মানী পাওয়ার জন্য নির্বাচন করবেন। মসজিদের সম্মানী প্রাপকদের ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহায় এক হাজার টাকা করে উৎসব ভাতা দেওয়া হবে। অন্যদিকে মন্দির, বৌদ্ধবিহার ও গির্জার সম্মানী প্রাপকরা যথাক্রমে দুর্গাপূজা, বুদ্ধপূর্ণিমা ও বড়দিনে এককালীন দুই হাজার টাকা করে উৎসব ভাতা পাবেন। অর্থনৈতিক অবস্থা বা বাজেট পরিস্থিতি বিবেচনায় সরকার যেকোনো সময় সম্মানীর হার পুনর্নির্ধারণ করতে পারবে বলে নীতিমালায় বলা হয়েছে।
মিথ্যা তথ্য বা জালিয়াতির শাস্তি প্রসঙ্গে নীতিমালায় বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি ভুয়া তথ্য বা জাল সনদ ব্যবহার করে সম্মানী নিলে তার বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারা অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যার সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। প্রতারণা করে সম্পত্তি হস্তান্তরে প্ররোচিত করার অপরাধে সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড হতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ দলিল বা মূল্যবান জামানত জাল করার অপরাধে যাবজ্জীবন অথবা ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে। দলিল জাল করলে সর্বোচ্চ সাত বছর কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড হতে পারে। অর্থাৎ, জালিয়াতির ধরন অনুযায়ী এক্ষেত্রে সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পর্যন্ত হতে পারে। একই সঙ্গে জালিয়াতির মাধ্যমে নেওয়া সম্মানীর অর্থও ফেরত দিতে হবে।





