দেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে গিয়ে কিছু করার সুযোগ নেই : অর্থমন্ত্রী

ছবি: আগামীর সময়
দেশের স্বার্থ বিক্রি করে ক্ষমতায় টিকে থাকার প্রবণতা একপর্যায়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছিল বলে মন্তব্য করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, দেশের সবকিছুর আগে বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থ ও জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দিতে হবে। এ কারণেই সরকারের অন্যতম স্লোগান ‘সবার আগে বাংলাদেশ’।
আজ রবিবার বিকালে বুয়েট মিলনায়তনে আয়োজিত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মরণ অনুষ্ঠান-২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেছেন।
নিজের জেলজীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে আমির খসরু বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় আমাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ হত্যা ও বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) কেন্দ্রে আগুন দেওয়ার মতো মামলায় কারাগারে পাঠানো হয়েছিল। তখন আমার মনে হয়েছিল, কারাগার থেকে বের হওয়ার সুযোগ নাও হতে পারে। এসময় পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ না থাকা, চিকিৎসার অভাব ও বন্দীদের ওপর কঠোরতার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
জুলাইয়ের শেষ দিকে কারাগারে থাকা অবস্থায় বাইরে কী ঘটছে, সে বিষয়ে কোনো তথ্য তারা পাচ্ছিলেন না বলেও জানান মন্ত্রী। ‘শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে চলে যাচ্ছেন— এমন খবর ছড়িয়ে পড়ার পর কারাগারে থাকা হাজারো বন্দীর মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয়। পরে কারা কর্তৃপক্ষের অনুরোধে মাইক্রোফোন নিয়ে বিভিন্ন ভবনের সামনে গিয়ে বন্দীদের শান্ত করি’, উল্লেখ করেন তিনি।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর মানুষের প্রত্যাশা অনেক বেড়েছে উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেছেন, ‘ভোটাধিকার, মানবাধিকার, আইনের শাসন ও অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাই এখন সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। বাংলাদেশের মানুষের প্রত্যাশা এখন আকাশচুম্বী।’
শুধু রাজনৈতিক গণতন্ত্র নয়, অর্থনীতিতেও সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, রাজনৈতিক গণতন্ত্র সফল হতে হলে অর্থনীতির গণতন্ত্রায়নও করতে হবে।
অর্থনীতির মূলধারায় কামার, কুমার, তাঁতি, কুটিরশিল্পী, শিল্পী, অভিনেতা, গায়ক ও ক্রীড়াবিদদের যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি। দক্ষতা উন্নয়ন, ডিজাইন, ব্র্যান্ডিং ও বিক্রির প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে তাদের আন্তর্জাতিক বাজারে যুক্ত করার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী।
তিনি ‘ক্রিয়েটিভ ইকোনমি’ ও ‘স্পোর্টস ইকোনমি’র ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেছেন, অর্থনীতির বাইরে থাকা মানুষদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করতে হবে। নিম্নআয়ের মানুষের জন্য ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য কর্মসূচির কথাও তুলে ধরেন তিনি। এসব উদ্যোগকে ‘জুলাই স্পিরিট’ ধারণের অংশ হিসেবে উল্লেখ করে আমির খসরু বলেছেন, ইশতেহার ও ৩১ দফা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে জুলাই গণঅভ্যুত্থান, মুক্তিযুদ্ধ ও স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের সার্থকতা আসবে।
অনুষ্ঠানে বুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. একরামুল হক, প্রো-ভিসি অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শরীফুল ইসলাম, সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান হামিদ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।







