মেট্রোরেল লাইন-৫
ব্যয় কমল আরও ২ হাজার কোটি
- প্রাথমিক প্রস্তাবে ছিল ৫৪৬১৮ কোটি
- সংশোধিত ডিপিপি পরিকল্পনা কমিশনে

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
রাজধানীর যানজট নিরসনে নিতে যাওয়া মেট্রোরেল লাইন-৫ (সাউদার্ন রুট)-এর ব্যয় আরও দুই হাজার কোটি টাকা কমেছে। প্রাথমিকে ধরা হয়েছিল ৫৪ হাজার ৬১৮ কোটি টাকা। সেখান থেকে পরিকল্পনা কমিশনের সুপারিশে প্রথম দিকে ৬ হাজার ৯৭৪ কোটি কমিয়ে ব্যয় ধরা হয় ৪৭ হাজার ৬৪৪ কোটি ৮০ লাখ টাকা।
কিন্তু সর্বশেষ প্রস্তাবিত ডিপিপিতে (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব) আরও দুই হাজার ১৪১ কোটি টাকা কমিয়ে মোট ব্যয় ৪৫ হাজার ৫০৩ কোটি ৭৬ লাখ টাকা ধরা হয়েছে। এটি বাস্তবায়নে ঋণ সহায়তা দিচ্ছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকে (এডিবি) ও কোরিয়ার ইডিসিএফ। গত ৯ আগস্ট সংশোধিত ডিপিপি পাঠানো হয়েছে পরিকল্পনা কমিশনে। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের
প্রকল্পটির আওতায় গাবতলী থেকে দাশেরকান্দি ভায়া টেকনিক্যাল-কল্যাণপুর-শ্যামলী-কলেজগেট-আসাদগেট-শুক্রাবাদ-কারওয়ান বাজার-হাতিরঝিল-তেজগাঁও-আফতাবনগর-আফতাবনগর সেন্টার-আফতাবনগর পূর্ব (নাসিরাবাদ) পর্যন্ত ১৭ দশমিক ৪ কিলোমিটার লাইন নির্মাণ করা হবে। এর মধ্যে উড়াল ও পাতাললাইন তৈরির মধ্য দিয়ে ঢাকা শহরের পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্তকে সংযুক্ত করা হবে।
এদিকে প্রকল্পটি অনুমোদনের আগেই কনস্ট্রাকশন পরামর্শক নিয়োগে নির্দিষ্ট কোম্পানিকে কাজ দেওয়ার পাঁয়তারার অভিযোগ উঠেছে। বলা হয়েছে, পতিত আওয়ামী লীগ সরকার আমলের সিন্ডিকেটকে কাজ দিতে প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। এ বিষয়ে সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অভিযোগ দিয়েছে একটি কোম্পানির স্থানীয় প্রতিনিধি। এ নিয়ে এখনো কোনো তৎপরতা চোখে পড়েনি।
পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি আগামীর সময়কে বলেছেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখার কাজ চলছে।
প্রকল্প পরিচালক ব্রি. জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ আব্দুল ওহাব এর আগে বলেছিলেন, প্রথম দিকে আমরা ধারণা ভিত্তিতে ব্যয় প্রাক্কলন করে ডিপিপি তৈরি করেছিলাম। পরে ২০২৪ সালে যখন ডিটেইল ডিজাইন তৈরি হয় তখন পুঙ্খানুপুঙ্খ ব্যয় স্টিমেট করায় মোট ব্যয় কমেছে। এ ছাড়া পরিকল্পনা কমিশনের সুপারিশ মেনে আরও কিছু ব্যয় কমানো হয়েছে।
প্রকল্পের প্রধান ৯ খাতের ব্যয়
প্রকল্পের আওতায় প্রধান খাতের ব্যয় হলো-মেইন লাইনের সিভিল ও স্টেশন ওয়ার্ক এবং ডিপোতে সিভিল ও বিল্ডিং ওয়ার্ক খাতের খরচ হবে ১৭ হাজার ৭৩৭ কোটি, যা মোট প্রকল্প ব্যয়ের ৩৭ দশমিক ২৩ শতাংশ। এ ছাড়া ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড মেকানিক্যাল (ইঅ্যান্ডএম) এবং রেলওয়ে সিস্টেমে ১৩ হাজার ২৫৮ কোটি ৪৮ লাখ টাকা, যা ২৭ দশমিক ৮৩ শতাংশ। রোলিং স্টক এবং ডিপো ইকুপমেন্টে চার হাজার ৮২১ কোটি ৪৮ লাখ, যা ১০ দশমিক ১২ শতাংশ। পরামর্শক খাতে এক হাজার ৬২৬ কোটি ৩১ লাখ, যা তিন দশমিক ৪১ শতাংশ। জমি অধিগ্রহণ, পুনঃঅধিগ্রহণ বা পুনর্বাসনে চার হাজার ৯৯৭৯ কোটি ৩২ লাখ টাকা, যা ১০ দশমিক ৪৫ শতাংশ। রিজার্ভ ফর কমিটমেন্ট চার্জ অন লোন অব এডিবি খাতে ১৫০ কোটি, যা শূন্য দশমিক ৩২ শতাংশ।
আরও আছে, যানবাহন ভাড়ায় ১০১ কোটি ৭৭ লাখ টাকা, যা শূন্য দশমিক ২১ শতাংশ এবং অফিস ভাড়ায় ১২ কোটি ২৭ লাখ টাকা, যা মোট ব্যয়ের শূন্য দশমিক তিন শতাংশ।
সাবেক পরিকল্পনা সচিব মামুন-আল-রশীদ বলেছেন, কোরিয়া সাধারণত কম বিনিয়োগ করে বেশি লাভ নিতে চায়। মেট্রোরেলে দেশটি সম্ভবত প্রথম অর্থায়ন করছে। ফলে তাদের প্রস্তাবিত অনেক কিছুই খতিয়ে দেখতে হবে।
এ ছাড়া তাদের কারিগরি জ্ঞান যাতে আমাদের দেশীয় বিশেষজ্ঞরা অর্জন করতে পারেন সেই ব্যবস্থা রাখতে হবে। এ ধরনের প্রকল্পের অভিযোগ হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। কেননা যারা অভিযোগ করেন তারা যুক্তি এবং তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই করে থাকেন। তাদের অভিযোগ আমলে নিয়ে অবশ্যই খতিয়ে দেখতে হবে— যোগ করেন সাবেক এই পরিকল্পনা সচিব।





