চিকিৎসায় এআই বাড়াবে সম্ভাবনা, বাড়বে দায়িত্বও

সংগৃহীত ছবি
স্বাস্থ্যসেবায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার চিকিৎসকদের সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করতে পারে। তবে রোগীর নিরাপত্তা, তথ্যের গোপনীয়তা ও চিকিৎসকের পেশাগত দায়িত্ব নিশ্চিত করেই এ প্রযুক্তি ব্যবহার করতে হবে বলে উল্লেখ করেছেন এভারকেয়ার হাসপাতাল চট্টগ্রামের ডিজিটাল, ব্র্যান্ড ও জনসংযোগ বিভাগের প্রধান মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন মামুন।
এক নিবন্ধে তিনি বলেছেন, রোগের তথ্য বিশ্লেষণ, চিকিৎসাসংক্রান্ত ছবি পর্যালোচনা এবং হাসপাতালের প্রশাসনিক কাজ সহজ করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে। তবে প্রযুক্তি চিকিৎসকের পেশাগত বিচারবোধ ও দায়িত্বের বিকল্প হতে পারে না।
মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন মামুনের ভাষ্য, রোগীর বয়স, আগের রোগের ইতিহাস, শারীরিক অবস্থা ও ওষুধ ব্যবহারের বিবরণ বিবেচনা করে চিকিৎসার সিদ্ধান্ত নিতে হয়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিপুল তথ্য বিশ্লেষণ করে সম্ভাব্য ঝুঁকি শনাক্ত করতে পারলেও রোগীর ক্ষেত্রে সেই তথ্যের প্রাসঙ্গিকতা নির্ধারণে চিকিৎসকের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা প্রয়োজন।
তিনি উল্লেখ করেছেন, অসম্পূর্ণ বা ভুল তথ্যের ভিত্তিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিভ্রান্তিকর ফল দিতে পারে। তাই স্বাস্থ্যসেবায় এ প্রযুক্তি ব্যবহারের আগে এর নির্ভরযোগ্যতা, নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা যাচাই করা জরুরি। পাশাপাশি রোগীর তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষা, চিকিৎসক ও কর্মীদের প্রশিক্ষণ এবং প্রযুক্তির ভুল শনাক্ত করার কার্যকর ব্যবস্থা থাকতে হবে।
তিনি আরও বলেছেন, চিকিৎসায় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়লেও রোগীর সঙ্গে মানবিক যোগাযোগের গুরুত্ব কমবে না। রোগীর উদ্বেগ শোনা, চিকিৎসার বিকল্প ব্যাখ্যা করা এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে জানানো চিকিৎসার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কার্যকর ব্যবহারের জন্য দক্ষ জনবল, নির্ভরযোগ্য তথ্য, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও কার্যকর নীতিমালা নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। তাঁর মতে, প্রযুক্তির সাফল্য নির্ধারণ করতে হবে রোগীর বাস্তব উপকার, চিকিৎসার কার্যকারিতা ও নিরাপত্তার ভিত্তিতে।
মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন মামুনের মতে, স্বাস্থ্যসেবার মূল লক্ষ্য প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো নয়, বরং মানুষের জন্য নিরাপদ, কার্যকর ও দায়িত্বশীল চিকিৎসা নিশ্চিত করা। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হলে রোগী, চিকিৎসক ও তাঁদের পারস্পরিক আস্থাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।



