ফ্যাটিলিভারের ঝুঁকিতে ডায়াবেটিস আক্রান্তরা
- গবেষণায় তথ্য

সংগৃহীত ছবি
দেশে ক্রমেই বাড়ছে ফ্যাটিলিভারে আক্রান্তের সংখ্যা। উল্লেখযোগ্য হারে এ রোগ বাসা বাঁধছে শিশুদের মধ্যেও। এর সবচেয়ে বড় স্বাস্থ্যঝুঁকি; অধিকাংশ ক্ষেত্রে থাকে না কোনো স্পষ্ট লক্ষণ। এ ছাড়া ডায়াবেটিস আক্রান্ত ব্যক্তিদের ফ্যাটিলিভার হওয়ার ঝুঁকি সাধারণ মানুষের তুলনায় কয়েকগুণ বলে গবেষণায় জানা গেছে।
ফ্যাটিলিভার হলো লিভারে অতিরিক্ত চর্বি জমার পরের একটি অবস্থা। এটি এখন আর শুধু লিভারের রোগ নয়, বরং উদীয়মান জনস্বাস্থ্য সমস্যা। উপসর্গহীন এই অসংক্রামক রোগ নীরবে বাড়াচ্ছে ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, সিরোসিস ও লিভার ক্যানসারের ঝুঁকি— জানালেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
দেশে ফ্যাটিলিভার নিয়ে জাতীয় পর্যায়ে নেই কোনো স্বাস্থ্য জরিপ। তবে বড় কয়েকটি হাসপাতালের শীর্ষস্থানীয় লিভার বিশেষজ্ঞ এবং জনস্বাস্থ্য গবেষক মিলে ‘প্রিভেলেন্স অ্যান্ড রিস্ক ফ্যাক্টরস অব নন-অ্যালকোহোলিক লিভার ডিজিজ ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক গবেষণা পরিচালনা করেন। জরিপটি চলে গ্রাম ও শহরের ২ হাজার ৭৮২ নারী ও পুরুষের মধ্যে, যাদের বয়স ১৮ থেকে ৮৫ বছর।
দেশের সবচেয়ে বড় জনভিত্তিক এই গবেষণার তথ্য বলছে, বাংলাদেশে এক তৃতীয়াংশ মানুষের লিভারে অতিরিক্ত চর্বি রয়েছে, অর্থাৎ তারা ফ্যাটিলিভারে আক্রান্ত। গ্রামীণ এলাকার নারীদের মধ্যে এর প্রবণতা বেশি। এ ধরনের সমস্যা সবচেয়ে বেশি পাওয়া গেছে ৪৫ থেকে ৫৪ বছর বয়সী মানুষের মধ্যে।
গবেষণায় দেখা গেছে, ডায়াবেটিস থাকলে এ রোগের ঝুঁিক প্রায় তিনগুণ। এসব রোগীর বেশিরভাগই থাকে লক্ষণহীন। লিভার এনজাইম বেড়ে গেলে অনেক ক্ষেত্রে ধরা পড়ে পরীক্ষায়। তবে ডায়াবেটিস রোগীদের অনেকেই জানেই না তারা ফ্যাটিলিভারের ঝুঁকিতে।
‘ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরের সুগার কোষ গ্রহণ করতে পারে না, জমে থাকে রক্তেই। এতে তাদের শরীরে ইনসুলিন ঠিকমতো কাজ করে না, লিভারে অতিরিক্ত ফ্যাট হিসেবে জমতে শুরু করে সেই সুগার। ফলে তাদের ফ্যাটিলিভারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি। খাদ্যের সুষম বণ্টন নেই বলে এ ধরনের রোগী বাড়ছে’— যোগ করলেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ লেলিন চৌধুরী।
হাসপাতালভিত্তিক ছোট গবেষণায় দেখা গেছে, স্থূল বা অতিরিক্ত ওজনের শিশুদের মধ্যে ৪০ শতাংশ ফ্যাটিলিভারে আক্রান্ত। সাধারণ শিশুদের মধ্যে এই হার ৫ থেকে ১০ শতাংশ। তবে স্থূল শিশুদের পাশাপাশি স্বাভাবিক স্বাস্থ্যের শিশুদের মধ্যেও এ ধরনের সমস্যা থাকতে পারে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
‘ফ্যাটিলিভার দিনদিন জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াচ্ছে। তবে এখনো আতঙ্কিত হওয়ার পর্যায়ে যায়নি, সতর্ক হতে হবে। সাদা চিনি, পরিশোধিত কার্বোহাইড্রেট (সাদা চাল, আটা, ময়দা) ও ভোজ্য তেলের অতিরিক্ত ব্যবহার কমাতে পারলে এ ধরনের রোগ থেকে অনেকটাই দূরে থাকা সম্ভব’— সুস্থ থাকার উপায় বাতলে দিলেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ মোহাম্মদ ইকবাল।
এই প্রেক্ষাপটেই ‘দৃঢ় অভ্যাস, সুস্থ লিভার’ প্রতিপাদ্যে আজ বিশ্বের অন্য দেশের মতো বাংলাদেশেও পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক ফ্যাটিলিভার দিবস। এ উপলক্ষে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হবে শোভাযাত্রা ও বৈজ্ঞানিক সেমিনার।


