হামে মৃত্যু ৭০০ ছুঁইছুঁই ডেঙ্গুতে ১৩, বাড়ছে শঙ্কা

ফাইল ছবি
হামে আক্রান্ত হয়ে দেশে আরও ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে হাম ও এর উপসর্গে মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ৬৯৮-এ। মৃতদের মধ্যে ৯৩ জনের শরীরে হাম নিশ্চিত হওয়া গিয়েছিল। বাকি ৬০৫ জনের শরীরে ছিল নানা উপসর্গ। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত বুলেটিন থেকে হামের এই চিত্র উঠে এসেছে। এই দফায় হামের প্রাদুর্ভাব হওয়ার পর গত ১৫ মার্চ থেকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর নতুন করে হামের হিসাব রাখতে শুরু করেছে।
হাম নিয়ে দুশ্চিন্তা কাটতে না কাটতেই চোখ রাঙাচ্ছে ডেঙ্গু। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও এক ব্যক্তি মারা গেছে। এ নিয়ে চলতি সপ্তাহে মশাবাহিত এ রোগে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬-এ। আর এ মাসে মারা গেছে আটজন, যা আগের মাসের তুলনায় আট গুণ বেশি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার অ্যান্ড কন্ট্রোল রুমের দেওয়া তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র।
তাদের তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত-এ ছয় মাসে ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যু ১৩ জন। হামের পাশাপাশি ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ায় আতঙ্কে সাধারণ মানুষ। সবচেয়ে বেশি ভয়ে আছেন কম বয়সী শিশুদের অভিভাবকরা। কিছুদিন আগেই হাম থেকে উঠেছে এক বছরের অমিত আহমেদ। অমিতের শরীরে আয়রনের পরিমাণও কম। ডেঙ্গু বাড়ার পরে অমিতকে নিয়ে রীতিমতো উদ্বেগে আছেন তার বাবা-মা। অমিতের মা ছালমা বেগম বলছিলেন, ‘অনেক চেষ্টা করেও অমিতকে হাম থেকে দূরে রাখতে পারিনি। ওর শরীর এখনো খুব দুর্বল। হাম-পরবর্তী জটিলতায়ও ভুগছে। এর ওপর যদি ডেঙ্গু হয়, তখন কী পরিস্থিতি হবে— ভেবে সারাক্ষণ ভয়ে থাকি।’
রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ মুশতাক হোসেন বললেন, ‘মার্চ থেকে হামের প্রাদুর্ভাব শুরু হয়েছে। হামে আক্রান্ত ব্যক্তিদের বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকে। এ ছাড়া তাদের অনেকে হাম-পরবর্তী জটিলতায় ভুগছে। তারা নতুন করে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হলে পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠবে।’ মৃতের সংখ্যা বাড়ার পাশপাশি তাদের দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক জটিলতাও বেশি হবে বলে মন্তব্য করেন এই জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ মোহাম্মদ ইকবাল বললেন, ‘বর্ষা মৌসুমে মশার প্রজনন বেশি থাকে। সাধারণত জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। তবে বর্ষাকাল প্রলম্বিত হলে ডেঙ্গুর ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। তখন অক্টোবর থেকে নভেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গু রোগীর দেখা মিলতে পারে।’




