হাম উপসর্গ ও ডেঙ্গুতে প্রাণ গেল ৬ জনের

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
দেশের হাম ও ডেঙ্গুর প্রকোপ থামছেই না। প্রতিদিনই এই রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর মিছিলে যুক্ত হচ্ছে নতুন নতুন নাম। গত ২৪ ঘণ্টায়ও (বুধবার সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু ভাইরাস জ্বরে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে আরও ৪ জন এবং হাম উপসর্গে মৃত্যু হয়েছে ২ জনের।
এ নিয়ে চলতি বছরের শুরু থেকে অর্থাৎ ১ জানুয়ারি থেকে আজ সকাল ৮টা পর্যন্ত ডেঙ্গুতে ৩৬৮ জনের মৃত্যু হলো। আর গত ১৫ মার্চ থেকে আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত হাম উপসর্গে মৃত্যু সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২০৭ জনে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো হাম ও ডেঙ্গুবিষয়ক পৃথক বিজ্ঞপ্তি থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য মতে, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে যে ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে; তাদের মধ্যে ২ জন ময়মনসিংহ (সিটি করপোরেশনের বাইরে) বিভাগের বাসিন্দা। আর বাকি দুজন ঢাকা বিভাগের; এর মধ্যে ১ জন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের এবং অন্যজন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের বাসিন্দা।
অন্যান্য বিভাগে এ সময়ে নতুন কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মোট ৩৬৮ জনের মৃত্যু হলো। এর মধ্যে অক্টোবরের প্রথম ২২ দিনে ১২৩ জন মারা গেছেন। এ ছাড়া সেপ্টেম্বরে সর্বোচ্চ ১৪৮ জন, আগস্টে ৪৩ জন, জুলাইয়ে ৩৬ জন, জুনে ১৩ জন, মে মাসে একজন এবং জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন করে ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১ হাজার ৫১২ জন দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছর হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ১৮ হাজার ৫০২ জনে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ ৫০৭ জন এবং দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৯৪ জন ভর্তি হয়েছেন চট্টগ্রাম বিভাগে।
এ ছাড়া বরিশালে ২৩১ জন, খুলনায় ২০৬ জন, রাজশাহীতে ১৬২ জন, ময়মনসিংহে ৬০ জন, রংপুরে ৪৪ জন এবং সিলেটে ৮ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
অন্যদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ১ হাজার ১ হাজার ৪৫৫ জন রোগী। এ নিয়ে গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত মোট ১ লাখ ১২ হাজার ১১১ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। আর বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ৬ হাজার ২২৩ জন চিকিৎসাধীন।
হাম উপসর্গে ২ মৃত্যু
দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় (বুধবার সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল আটটা পর্যন্ত) হামের উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া ২ শিশু ঢাকা জেলা এবং ঢাকা বিভাগের বাসিন্দা। এ সময়ে নতুন করে ৯৯৫ জনের শরীরে হামের উপসর্গ শনাক্ত হয়েছেন। পাশাপাশি ল্যাবরেটরিতে নিশ্চিত হওয়া নতুন হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে ৩৬ জন। তবে গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে কারও মৃত্যুর তথ্য পাওয়া যায়নি।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের গত ২৪ ঘণ্টার তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা যায়, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে আজ সকাল ৮টা পর্যন্ত দেশে সর্বমোট হামের উপসর্গ থাকা রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ১৭ হাজার ৭৬০ জনে। এর মধ্যে পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া মোট হাম রোগীর সংখ্যা ২৩ হাজার ২৪৮ জন। একই সময়ে (১৫ মার্চ থেকে অদ্যাবধি) হামের উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে মোট ভর্তি হয়েছেন ১ লাখ ৯৩ হাজার ৬০৮ জন রোগী। চিকিৎসা শেষে এ পর্যন্ত হাসপাতাল থেকে সুস্থতার ছাড়পত্র পেয়েছে ১ লাখ ৮৫ হাজার ৯২৭ জন।
অন্যদিকে, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত হামের উপসর্গে মোট ১ হাজার ১০৩ জন এবং ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়ে মোট ১০৪ রোগী মারা গেছে।




