গ্রাম থেকে শহরে আসা মানুষের সংখ্যা কমছে
- কভিডের পর শহর ছাড়ার প্রবণতা বেড়েছে
- শহরে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি
- গ্রামে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা

ফাইল ছবি
সাভারের একটি বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি করতেন মো. রহমত উল্লাহ। পাশাপাশি ছিল ফার্নিচার ব্যবসা। তার প্রতিষ্ঠান থেকে বাকিতে ফার্নিচার কিনেছিলেন অনেকেই। যাদের অধিকাংশই পোশাক শ্রমিক। করোনার সময় পোশাক কারখানাগুলো বন্ধ হওয়ায় তার টাকা পরিশোধ না করেই সাভার ছেড়ে চলে যান অনেকেই। ফলে বিপুল টাকা লস দিয়ে ব্যবসা বন্ধ করতে হয় তাকে।
এরপর চাকরিটাও চলে যায় রহমতের। বাধ্য হয়ে চলে আসেন ঢাকার গেন্ডারিয়ায়। চাকরি নেন একটি বিমা কোম্পানিতে। সেখানে যা বেতন, তাতে বাজারের খরচ, বাসা ভাড়া, সন্তানদের পড়ালেখার খরচ যোগানো কষ্ট সাধ্য হয়ে পড়ে তার। শেষ পর্যন্ত ২০২২ সালে দুই সন্তান ও স্ত্রীকে নিয়ে চলে যান গ্রামের বাড়ি মাগুরায়। ২০২৫ সালে ফের ঢাকায় এসেছেন রহমত। তবে এবার পরিবারকে গ্রামে রেখে একাই এসেছেন।
শুধু রহমতই নন, এরকম অনেক মানুষই শহরে টিকতে না পেরে পাড়ি জমিয়েছেন গ্রামে। ‘বাংলাদেশ স্যাম্পল ভাইটাল স্টাটিসটিকস ২০২৩’ এ ওঠে এসেছে এমন তথ্য।
১৯৮০ সাল থেকে এই প্রতিবেদন তৈরি করে আসছে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর অন্তর্গত ‘স্যাম্পল ভাইটাল রেজিস্ট্রেশন সিস্টেম (এসভিআরএন)’। প্রতিবছর একটি করে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হলেও ২০২৩ সালের পর প্রকাশ করা হয়নি আর কোনো প্রতিবেদন।
এসভিআরএনের সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গ্রাম থেকে শহরে আসা মানুষের সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে প্রতি হাজার জনসংখ্যায় ১৯ দশমিক ৪ জনে। ২০২২ সালে এ সংখ্যা ছিল ৫৭ দশমিক ৩ জন। এক্ষেত্রে প্রতি হাজার মানুষের মধ্যে গ্রাম থেকে শহরে আসা কমে গেছে ৩৭ দশমিক ৯ জন।
এতে আরও বলা হয়েছে, ২০২১ সালের হিসাবে হাজারে গ্রাম থেকে শহরে আসত ৩০ দশমিক ৮ জন, ২০২০ সালে ছিল ৩১ দশমিক ৩ জন। এছাড়া ২০১৯ সালে এ সংখ্যা ছিল হাজারে ২৯ দশমিক ৭ জন।
প্রতিবেদনে দেখা যায়, শহর থেকে গ্রামে যাওয়া মানুষের সংখ্যা বেড়েছে। ২০২৩ সালের হিসাবে এ সংখ্যা ছিল প্রতি হাজারে ১৩ দশমিক ৮ জন। ২০২২ সালের হিসেবে সেটি ছিল ১০ দশমিক ৯ জন, ২০২১ সালে ৫ দশমিক ৯ জন, ২০২০ সালে ৮ দশমিক ৪ জন এবং ২০১৯ সালে ছিল হাজারে শূণ্য দশমিক ৭ জন।
প্রতিবেদন তৈরির দায়িত্বপ্রাপ্ত স্যাম্পল ভাইটাল রেজিস্ট্রেশন সিস্টেম (এসভিআরএস) ইন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম প্রকল্পের পরিচালক মো. আলমগীর হোসেন আগামীর সময়কে বলেছেন, ২০২৩ সালে যারা কর্মসংস্থান হারিয়ে গ্রামে চলে গেছেন তারা নতুন করে কর্মের ব্যবস্থা করে ফিরে আসতে অনেক সময় নিয়েছেন। ফলে শহরমুখী মানুষের সংখ্যা ২০২৩ সালে কম ছিল। কভিডের সময় গ্রামে ফেরা কেউ কেউ হয়তো আর শহরে আসেননি।
‘শহরে বাসাভাড়াসহ জীবনযাত্রার খরচ বাড়ায় মানুষ ব্যয় সাশ্রয়ের কৌশল হিসেবে মূল শহরে না থেকে শহরতলী বা আশপাশে থাকার চেষ্টা করছে। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি হওয়ায় সেখান থেকেই শহরে অফিস বা কাজ করতে পারছেন তারা। এক্ষেত্রে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো বিকল্প পথ অবলম্বন করছে বেশি,’ যোগ করেন তিনি।




