কাজ অনেক, পররাষ্ট্রে দুই প্রতিমন্ত্রী প্রসঙ্গে শামা ওবায়েদ

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। ছবি: ভিডিও থেকে
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একজন মন্ত্রীর সঙ্গে দুজন প্রতিমন্ত্রী! বিরল এই ঘটনার পক্ষে প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম দেখালেন এই মন্ত্রণালয়ের ‘অনেক কাজের’ যুক্তি।
মন্ত্রিসভায় একজন পররাষ্ট্রমন্ত্রীসহ নতুন পাঁচজনকে যুক্ত করার পরদিন আজ শনিবার ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নে এই যুক্তি হাজির করেন তিনি।
শামা ওবায়েদ বলেন, ‘অবশ্যই আপনার প্রশ্নের উত্তরে বলতে হবে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাজ অনেক।’
সেই কাজের খতিয়ান দিয়ে তিনি বলেন, ‘ফেব্রুয়ারি মাসের নির্বাচনের পর এখন পর্যন্ত ৬ মাসে আমাদের মন্ত্রণালয়ে বিগত ১৭ বছরের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি কাজ হয়েছে।
‘আমি ব্যক্তিগতভাবে ৩টি নতুন উইং ওপেন করেছি এখানে। মাইগ্রেশন নিয়ে আমরা কাজ করছি। অবৈধ মাইগ্রেশন বন্ধ করার জন্য কাজ করছি। এরই মধ্যে প্রবাসী কল্যাণ, কালচারাল মিনিস্ট্রি, লেবার মিনিস্ট্রি, কমার্স মিনিস্ট্রির সঙ্গে আমরা ইন্টার-মিনিস্ট্রিয়াল অনেকগুলো ফোকাল পয়েন্ট গ্রুপ কমিটি তৈরি করেছি, যেগুলো আগে কখনো ছিল না। এগুলো কিন্তু আমরা করেছি, আমি করেছি।’
পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে সভাপতি পদে নির্বাচিত হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে এই প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আগামী এক বছর তিনি অত্যন্ত ব্যস্ত থাকবেন। তাই মন্ত্রণালয়ের কাজের সুবিধার্থে এবং সরকারের কাজ আরও বেগবান করার লক্ষ্যে সরকার যে সিদ্ধান্ত নেবে, সে অনুযায়ী কাজ হবে।’
গত ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনে জয়ী হয়ে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান সরকার গঠনের সময় যে মন্ত্রিসভা সাজিয়েছিলেন তাতে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পান খলিলুর রহমান, সঙ্গে প্রতিমন্ত্রী করা হয় শামা ওবায়েদকে।
গতকাল শুক্রবার মন্ত্রিসভায় নতুন পাঁচজন শপথ নেন। তাদের মধ্যে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয় হুমায়ুন কবিরকে। তিনি এর আগে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা পদে ছিলেন।
মন্ত্রণালয়ে নতুন সহকর্মীকে নিয়ে শামা ওবায়েদ বলেন, ‘তিনি (হুমায়ুন কবির) তো পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করছেন এবং আগেও আমরা যখন বিরোধী দলে ছিলাম, তখনো উনি পররাষ্ট্রবিষয়ক কাজ করেছেন।
‘অবশ্যই তার সেই অভিজ্ঞতা আছে। আমরা মনে করি, আমরা যদি একসঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করতে পারি, তাহলে আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বহুপক্ষীয় কাজগুলো আরও গুরুত্বের সঙ্গে বেগবান হবে।’
সেন্টার ফর গভার্নেন্স স্টাডিজ (সিজিএস) ও জার্মানভিত্তিক ফাউন্ডেশন ফ্রেডরিখ এবার্ট স্টিফটুং (এফইএস)-এর যৌথ আয়োজনে ‘বাংলাদেশে তরুণ নারী রাজনৈতিক নেতৃত্ব শক্তিশালীকরণ এবং গণতান্ত্রিক পরিসর পুনরুদ্ধার’ শীর্ষক এক সংলাপে মন্ত্রিসভার রদবদল নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেন প্রতিমন্ত্রী।
কূটনৈতিক অঙ্গনে বর্তমানে আলোচনায় থাকা মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি সম্পর্কে শামা ওবায়েদ সাংবাদিকদের বলেন, বিএনপি সরকার ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ পররাষ্ট্রনীতিতে চলছে।
‘যেকোনো প্যাক্ট বা মাল্টিল্যাটেরাল বডিতে আমরা যুক্ত হব কি হব না, বাংলাদেশের স্বার্থ, জনগণের স্বার্থ রক্ষিত হচ্ছে কি না— সেটাই সর্বপ্রথম বিবেচ্য বিষয় হবে।’
এ মাসের শুরুতে মক্কায় সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান একটি যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে সই করে। ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ নামে এই চুক্তির আওতায় এর কোনো একটি দেশ কারো দ্বারা আক্রান্ত হলে তা জোটের সবাই প্রতিরোধ করবে।
মক্কা চুক্তিতে বাংলাদেশ যুক্ত হচ্ছে কি না- এই প্রশ্নে প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেন, ‘আমি এই মুহূর্তে বলতে পারব না। তবে যেকোনো মাল্টিল্যাটেরাল বডিতে যুক্ত হওয়ার আগে প্রথমেই দেখা হবে আমাদের স্বার্থে কোনো ব্যাঘাত ঘটছে কি না।’







