গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট: প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে ‘স্বস্তি’ পেলেন ব্যবসায়ীরা

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকে ব্যবসায়ী নেতা। আজ সোমবার সচিবালয়ে। ছবি: প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করে ‘স্বস্তি’ নিয়ে ফেরার কথা জানালেন ব্যবসায়ীরা। তাদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আগামীকালের মধ্যেই গ্যাস-বিদ্যুতের চলমান সংকট কেটে যাবে, এমন আশ্বাস পেয়েছেন তারা।
আজ সোমবার প্রধানমন্ত্রী দেশের ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর শীর্ষনেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন। ‘বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ পথরেখা’ শীর্ষক এই বৈঠকটি হয় সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে।
প্রায় তিন ঘণ্টা বৈঠকের পর আলোচনার বিষয়বস্তু সাংবাদিকদের জানান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন এবং ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের (এফবিসিসিআই) প্রশাসক ফজলুল হক।
মাহদী আমিন জানিয়েছেন, ২১টি ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিদের নিয়ে এই সভা হয়েছিল। পাশাপাশি গণমাধ্যমের পরিচিত মুখরাও সভায় অংশ নেন।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের সংকট সমাধানে সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা সভায় তুলে ধরা হয় বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর এ উপদেষ্টা।
তিনি বলেছেন, সংকট নিরসনে সরকারের সর্বোচ্চ দায়বদ্ধতা রয়েছে। ব্যবসায়ী নেতারা কিছু সমস্যার কথা বলেছেন। সরকার আশা করে, প্রতিটি সমস্যা নতুন সম্ভাবনার দুয়ার উন্মোচন করবে।
বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে জ্বালানি সংকট পোহাতে হচ্ছে। এর কারণ মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ। প্রথমে জ্বালানি তেলের সংকটের পর এখন গ্যাসের সংকট চলছে।
আর এর প্রভাব পড়ছে বিদ্যুৎ উৎপাদনে। লোডশেডিং দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দিতে হচ্ছে। গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটে শিল্প-কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।
বিষয়টি বৈঠকে তুলে ধরার কথা জানিয়ে এফবিসিসিআই প্রশাসক ফজলুল হক বলেছেন, জ্বালানি সংকট সমাধানে প্রধানমন্ত্রীর স্পষ্ট আশ্বাস পেয়ে স্বস্তি নিয়ে ফিরছেন তারা।
তিনি বলেছেন, ‘প্রতিটি স্তরের লোকজনই জ্বালানি সংকটে কম-বেশি ভুগছিলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, আমাদের যে নতুন করে সংকট তৈরি হয়েছে, আগের যে অবস্থায় আমরা ছিলাম, সেই অবস্থায় আগামীকাল রাতে ফিরে যেতে পারব। এটা আমাদের বড় প্রাপ্তি, বড় স্বস্তির খবর।’
বৈঠকে জ্বালানি নিয়ে সরকারের ভবিষ্যৎ রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছে জানিয়ে ফজলুল হক বলেন, ‘এর মাধ্যমে আমাদের চলমান সংকটই শুধু সমাধান হবে না, আগামী দিনে আমাদের যে চাহিদা হবে, বর্ধিত চাহিদা কীভাবে মেটাতে হবে, তা তুলে ধরেছেন।’
ব্যবসায়ীরা এ বিষয়ে নিজেদের পরামর্শ-মতামত দিয়েছেন বলেও জানান তিনি। জ্বালানি সংকটের পাশাপাশি ব্যাংক খাতের নানা সমস্যার সমাধানের আশ্বাসও পেয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
ফজলুল হক বলেন, ‘আমরা প্রশ্নের একটি সন্তোষজনক জবাব নিয়ে বের হয়েছি। আমরা যারা এসেছি এখানে, একটা স্বস্তি, একটা ভালো লাগার অনুভূতি নিয়ে সভা থেকে বেরিয়েছি।’
ব্যবসায়ীরা সরকারের ওপর আস্থাশীল জানিয়ে এফবিসিসিআই প্রশাসক বলেছেন, তারা যেমন অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন, সরকারও নীতি সহায়তা দিয়ে যাবে বলে তারা আশাবাদী।
স্বস্তির কথাটি আবারও উল্লেখ করে ফজলুল হক বলেছেন, ‘আমরা একটি স্বস্তি নিয়ে সভা থেকে বেরিয়েছে। এই স্বস্তি দীর্ঘদিন বজায় থাকবে বলে আমরা আশা করি।’



