নভেম্বরে চালু হতে পারে রূপপুরের প্রথম ইউনিট : বিদ্যুৎমন্ত্রী

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু- ভিডিও থেকে
বহুল প্রতিক্ষিত দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট আগামী নভেম্বরে চালু করা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। আজ শুক্রবার সকালে রাজধানীর আফতাবনগরে পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশের প্রধান কার্যালয় পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ তথ্য জানান বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।
পাবনার ঈশ্বরদীতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ১২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার দুটি ইউনিট রয়েছে। প্রথম ইউনিটের পারমাণবিক জ্বালানি লোডিং শেষে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা-নিরীক্ষার কাজ চলছে। দ্বিতীয় ইউনিটের নির্মাণ কাজও চলছে পুরোদমে।
বিদ্যুৎমন্ত্রী বললেন, কেন্দ্রটির প্রথম ইউনিট থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর প্রস্তুতি চলছে। রাশিয়ার পক্ষ থেকে আগস্টে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করার কথা বলা হলেও পুরো ব্যবস্থাকে স্থিতিশীল করতে আরও কিছু সময় লাগবে। সে কারণে নভেম্বরের মধ্যে ইউনিটটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সময় খুব বেশি হাতে নেই। তাই সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিয়ে কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।’
তিনি বলেছেন, ক্যাপাসিটি চার্জের নামে আগের সরকার বড় ধরনের আর্থিক বোঝা রেখে গেছে। তবে নতুন সরকার চাইলেই তাৎক্ষণিকভাবে সবকিছু পরিবর্তন করতে পারে না। বিষয়গুলো আইনি প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত। আইন মন্ত্রণালয় বিষয়গুলো পর্যালোচনা করছে। রাতারাতি কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়। বিদ্যমান চুক্তিগুলো পর্যালোচনা করা হচ্ছে। সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইকবাল হাসান মাহমুদ আরও বলেছেন, একটি স্থিতিশীল বিদ্যুৎব্যবস্থা গড়ে তুলতে উৎপাদন, সঞ্চালন ও বিতরণ—এই তিন খাতের সমন্বিত উন্নয়ন প্রয়োজন। ফ্যাসিস্ট সরকার বিদ্যুৎ খাতে ব্যাপক সম্প্রসারণ করেছিল। প্রতিটি ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছিল। কিন্তু উৎপাদন ও সঞ্চালনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিতরণ ব্যবস্থার উন্নয়ন করা হয়নি। অতীতে বিদ্যুৎ খাত সম্প্রসারণ করা হলেও সমন্বিত পরিকল্পনার অভাবে এসব খাতের মধ্যে বড় ধরনের ব্যবধান তৈরি হয়েছে। ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সঞ্চালন সক্ষমতা ঠিক থাকলেও সরবরাহ ব্যবস্থায় ঘাটতি রয়ে গেছে।
তার মতে, বর্তমানে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সঞ্চালন ব্যবস্থায় বড় কোনো ঘাটতি নেই। কিন্তু বিতরণ পর্যায়ে নানা সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বিঘ্নিত হচ্ছে। সাধারণভাবে এসব ঘটনাকে লোডশেডিং বলা হলেও অনেক ক্ষেত্রে এর পেছনে বিতরণ লাইনের কারিগরি ত্রুটি কাজ করছে।
অপরিকল্পিতভাবে বিতরণ লাইন স্থাপন করায় উৎপাদন ও সঞ্চালন স্বাভাবিক থাকলেও অনেক এলাকায় দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎহীন থাকতে হচ্ছে জানিয়ে তিনি বললেন, এর মূল কারণ বিতরণ লাইনের সমস্যা। এসব সমস্যা কীভাবে সমাধান করা যায়, সে বিষয়ে পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসির (পিজিসিবি) সঙ্গে বৈঠক করা হয়েছে।
ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু অভিযোগ করেন, বিগত সরকার প্রতিটি ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নিলেও সে সময় প্রয়োজনীয় কারিগরি পরিকল্পনাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। একটি আদর্শ বিতরণ লাইনের দৈর্ঘ্য ৩০ থেকে ৩৫ কিলোমিটারের মধ্যে থাকা উচিত হলেও পল্লী বিদ্যুতের অনেক লাইন ৯০ থেকে ১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত সম্প্রসারণ করা হয়েছে। ফলে বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ ব্যবস্থায় দুর্বলতা তৈরি হয়েছে।
মন্ত্রীর ভাষ্য, এসব অপরিকল্পিত লাইন শুধু স্থানীয় পর্যায়ে বিদ্যুৎ সরবরাহে সমস্যা তৈরি করছে না, বরং পুরো বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ওপরও চাপ সৃষ্টি করছে। এর প্রভাব উৎপাদন, সঞ্চালন ও গ্রিড ব্যবস্থাপনাতেও পড়ছে।
তিনি আরও জানান, বিতরণ ব্যবস্থার এসব সমস্যা দ্রুত সমাধানের উপায় খুঁজতে পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ (পিজিসিবি) কর্মকর্তাদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করা হয়েছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যৎ বিদ্যুৎ চাহিদা এবং নতুন বিদ্যুৎ উৎস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার প্রস্তুতিও পর্যালোচনা করা হচ্ছে।




