ডেপুটি স্পিকার
বিরোধী দল ছায়া সংসদ গঠন করতে পারে

মঙ্গলবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটে আয়োজিত নবীনবরণ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল
জাতীয় সংসদকে শক্তিশালী করতে সরকারি ও বিরোধী দল উভয়কেই দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
তিনি বলেছেন, সংসদীয় গণতন্ত্রকে সুসংহত করতে বিরোধী দল ছায়া সংসদ গঠন করতে পারে। একই সঙ্গে জনগণের কাঙ্ক্ষিত সেবা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে কার্যকর সংস্কার ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা জরুরি।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইআর) শরৎ উৎসব ও ৩১তম ব্যাচের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক হোসনে আরা বেগম।
ডেপুটি স্পিকার জাতীয় সংসদের কার্যকারিতা প্রসঙ্গে বলেন, ‘সংসদীয় গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে সরকারি ও বিরোধী দলকে নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হবে। সংসদ কার্যকর না থাকলে দেশ আবারও বিপথে যাওয়ার আশঙ্কা থেকে যায়। সরকারের নীতি ও কর্মকাণ্ডের পর্যালোচনা, ভুলত্রুটি চিহ্নিতকরণ এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করতে বিরোধী দলের গঠনমূলক ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’
তার ভাষ্য, ওয়েস্টমিনস্টার সংসদীয় ব্যবস্থার আদলে বিরোধী দলের একটি কার্যকর ছায়া সংসদ থাকলে গণতন্ত্র সংহত এবং নির্বাহী বিভাগকে অধিকতর জবাবদিহির আওতায় আনা যেতে পারে। এর মাধ্যমে সরকারের নীতি, মন্ত্রিসভার কার্যক্রম ও বিভিন্ন সিদ্ধান্ত পর্যালোচনা করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি সরকারের ভুলত্রুটি তুলে ধরে বিকল্প প্রস্তাব উপস্থাপন এবং সংসদীয় জবাবদিহি নিশ্চিত করার সুযোগ সৃষ্টি হবে।’
দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ঐতিহাসিক অবদানের কথা উল্লেখ করে ডেপুটি স্পিকার বলেছেন, ‘ভাষা আন্দোলন, মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনসহ বিভিন্ন গণতান্ত্রিক সংগ্রামে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। তাদের নেতৃত্বে দেশের মানুষ বিভিন্ন সময়ে অধিকার আদায়ের সংগ্রামে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে।’
রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, ‘কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন নিশ্চিত করতে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের কোনো বিকল্প নেই। আমলাতন্ত্র, সিভিল প্রশাসনসহ রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কার্যকর সংস্কার না হলে সরকারের উন্নয়ন উদ্যোগের সুফল জনগণের কাছে যথাযথভাবে পৌঁছাবে না। তাই প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক, কার্যকর ও জনবান্ধব করে গড়ে তুলতে হবে।’



