থার্ড টার্মিনাল
জাপানের সঙ্গে চুক্তি সই পেছাল

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল—ফাইল ছবি
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল পরিচালনার জন্য বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) ও জাপানি কনসোর্টিয়ামের মধ্যে চলতি জুলাই মাসে চুক্তি হওয়ার কথা থাকলেও এ মাসে তা আর হচ্ছে না। আগস্টের শেষে বা সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে চুক্তিটি হতে পারে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক।
আজ সোমবার গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য আয়োজিত ‘সিভিল এভিয়েশন অ্যান্ড এয়ার ট্রাফিক অপারেশন’ শীর্ষক এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা জানালেন তিনি।
মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক বলেছেন, ‘যে পর্যন্ত চুক্তিতে সই বা স্বাক্ষর না হয়, সে পর্যন্ত একবারে শতভাগ নিশ্চিন্ত করে বলাটা ঠিক হবে না। কিন্তু আমাদের সব চেষ্টা আছে। আমার বিশ্বাস, হয়তোবা আগস্টের শেষে অথবা সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে চুক্তিটা হবে।’
বেবিচক চেয়ারম্যান জানালেন, থার্ড টার্মিনাল উদ্বোধনের পর আর অপারেশন বন্ধ করা যাবে না। ফলে উদ্বোধন ১৬ ডিসেম্বর হোক বা অন্য কোনো সময়, অপারেশন চালু রাখতে হবে। জাপানি কনসোর্টিয়ামের কাছেও এমন অনুরোধ করা হয়েছে। শুরুতে ধারণ ক্ষমতার ২০ থেকে ২৫ শতাংশ এয়ার ট্রাফিক হ্যান্ডেল করা হতে পারে, যা পর্যায়ক্রমে পরবর্তী ছয় মাসে শতভাগে পৌঁছাবে।
এর আগে গত জুনে এক সংবাদ সম্মেলনে বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেছিলেন, ‘নির্ধারিত সময়সীমা অনুযায়ী ১৯ জুলাইয়ের মধ্যে চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হবে। আমরা এর আগেই চুক্তিটি সম্পন্ন করার চেষ্টা করব। আমরা আশা করছি, চলতি বছরের ১৬ ডিসেম্বরের মধ্যে তৃতীয় টার্মিনালটি চালু হয়ে যাবে।’
তবে চুক্তির অনেক বিষয় এখনো অমীমাংসিত থাকায় চুক্তি চূড়ান্ত করা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন বেবিচক কর্মকর্তারা।
এ বিষয়ে বেবিচক সদস্য (পরিচালনা ও পরিকল্পনা) এয়ার কমোডের আবু সাঈদ মেহ্বুব খান জানালেন, আগামী ৩১ জুলাই জাপানি কনসোর্টিয়াম বেবিচকের কাছে একটা বিড সাবমিশন করবে। তারপর আলোচনা হবে এবং সেই আলোচনার পর চুক্তি স্বাক্ষর হতে পারে। চুক্তির আওতায় জাপানিরা থার্ড টার্মিনাল ব্যবহার করবেন, মাল্টি-লেভেল কার পার্কিং ব্যবহার করবেন, পাশাপাশি নতুন ইমেপোর্ট কার্গো টার্মিনাল (আইসিটি) ও এক্সপোর্ট কার্গো টার্মিনাল ব্যবহার করবেন।
রাজধানীর কুর্মিটোলায় বেবিচকের সদর দপ্তরে আয়োজিত কর্মশালায় হজযাত্রীদের নির্বিঘ্ন সেবা নিশ্চিত করতে বিমানবন্দরে গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরেন বেবিচকের সদস্য (প্রশাসন) মোহাম্মদ লাবলুর রহমান।
এ ছাড়া, এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল (এটিসি), এয়ার ট্রাফিক ফ্লো ম্যানেজমেন্ট (এটিএফএম), রেডিও ও নেভিগেশন এইডস, ইনস্ট্রুমেন্ট ল্যান্ডিং সিস্টেম (আইএলএস), অ্যারোনটিক্যাল লাইটস, অবস্ট্যাকল লিমিটেশন সারফেস (ওএলএস), এয়ারফিল্ড পরিচালনা এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা বিষয়ে বিস্তারিত উপস্থাপনা করেন আরেক সদস্য (এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট) এয়ার কমোডর মো. নূর-ই-আলম।





