সমুদ্রপৃষ্ঠ বাড়ছে দ্বিগুণ গতিতে, মিঠাপানির সংকটে উপকূল ও গঙ্গা অববাহিকা

সংগৃহীত ছবি
গত তিন দশকে বৈশ্বিক সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির হার প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে, যা বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জীবিকা, কৃষি ও বসতির জন্য সরাসরি হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। একই সঙ্গে চরম জলবায়ু পরিবর্তন ও অতিরিক্ত ব্যবহারের কারণে গঙ্গা অববাহিকাসহ দক্ষিণ এশিয়ায় মিঠাপানির সঞ্চয় আশঙ্কাজনকভাবে কমছে। ‘১০ নিউ ইনসাইটস ইন ক্লাইমেট সায়েন্স ২০২৬/২০২৭’ শীর্ষক এক নতুন বৈশ্বিক প্রতিবেদনে এসব মারাত্মক ঝুঁকির কথা তুলে ধরা হয়েছে।
ফিউচার আর্থ, দ্য আর্থ লিগ ও ওয়ার্ল্ড ক্লাইমেট রিসার্চ প্রোগ্রাম (ডব্লিউসিআরপি) যৌথভাবে বিশ্বখ্যাত গবেষকদের পর্যালোচনায় প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে। এতে জানানো হয়, ২০২৫ সালে বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা প্রাক-শিল্প যুগের চেয়ে প্রায় ১.৪৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি ছিল এবং গত ১১ বছরই ইতিহাসের সবচেয়ে উষ্ণ সময় হিসেবে রেকর্ড গড়েছে। তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে সমুদ্র ও বরফস্তরে যে পরিবর্তন এসেছে, তার একটি বড় অংশ আর কোনোভাবেই আগের অবস্থায় ফেরানো সম্ভব নয়।
প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে, গঙ্গা অববাহিকায় সেচের অতিরিক্ত চাপের কারণে ভূগর্ভস্থ পানির মজুত দ্রুত তলানিতে ঠেকছে। মিঠাপানির এই সংকট ভবিষ্যতে বাংলাদেশের কৃষি, খাদ্য নিরাপত্তা, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর গভীর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। একই সঙ্গে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে বাঁধ ও অবকাঠামোর পাশাপাশি স্থানীয় জনস্বাস্থ্যের ওপর বড় বিপর্যয় নেমে আসার আশঙ্কা রয়েছে।
উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিশ্বের সব দেশকে দ্রুত কার্বন নিঃসরণ কমানো, উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য আন্তর্জাতিক অর্থায়ন বাড়ানো এবং অভিযোজন পরিকল্পনা জোরদার করার আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে ২০৩৫ সালের মধ্যে বাৎসরিক জলবায়ু অর্থায়ন অন্তত ১.৩ ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা এবং ক্ষয়ক্ষতি তহবিলে (লস অ্যান্ড ড্যামেজ ফান্ড) পর্যাপ্ত অর্থ জোগানোর ওপর তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
পটসডাম ইনস্টিটিউট ফর ক্লাইমেট ইমপ্যাক্ট রিসার্চের পরিচালক জোহান রকস্ট্রম উল্লেখ করেন, তাপমাত্রা সীমার সামান্য বিচ্যুতিও মানবজাতির জন্য অপরিবর্তনীয় ক্ষতির কারণ হতে পারে। রপ্তানিনির্ভর ও বদ্বীপের দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে সৌরবিদ্যুতের মতো পরিচ্ছন্ন জ্বালানিতে দ্রুত স্থানান্তরিত হওয়ার পরামর্শও প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে।



