সংসদে প্রধানমন্ত্রী
তিস্তায় আরেকটি ব্যারেজ করতে চায় সরকার

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
শুষ্ক মৌসুমে পানি সংরক্ষণের জন্য তিস্তা নদীতে আরও একটি ব্যারেজ নির্মাণের পরিকল্পনা সরকারের। এ লক্ষ্যে কারিগরি ও আর্থিক বিষয়গুলো বিভিন্ন পর্যায়ে যাচাই-বাছাই হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
আজ বুধবার জাতীয় সংসদে রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেনের প্রশ্নের জবাব দিচ্ছিলেন সরকারপ্রধান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে উত্থাপিত হয় প্রশ্নোত্তর।
প্রধানমন্ত্রী বলছেন, তিস্তা নদীকেন্দ্রিক টেকসই ও সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে এরই মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে একটি সমীক্ষা। তাতে তিস্তা মহাপরিকল্পনার আওতায় ১১০ কিলোমিটার নদীতীর সংরক্ষণ, ১১০ কিলোমিটার নদী ড্রেজিং, ২২৪ কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ও বাঁধের ওপর সড়ক নির্মাণ, ৬৭টি গ্রোয়েন বা স্পার নির্মাণ ও মেরামত এবং ১৭০ বর্গকিলোমিটার ভূমি পুনরুদ্ধারসহ উন্নয়নের প্রস্তাব রয়েছে।
জামালপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানাচ্ছিলেন, দেশে হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে জাতীয় টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বাস্তবায়ন করছে সরকার। হামের বিস্তার, টিকাদান কার্যক্রমসহ নিয়মিত পর্যালোচনা হচ্ছে সংশ্লিষ্ট নীতিগত বিষয়গুলো।
তিনি উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিক মান ও সরকারি বিধি অনুসারে পরিচালিত হয় টিকা সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও বিতরণ। টিকা সংগ্রহ পদ্ধতির কোনো পরিবর্তনের কারণে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে তথ্য-উপাত্ত ও কারিগরি মূল্যায়নের ভিত্তিতে। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের গাফিলতির প্রমাণ মিললে ব্যবস্থা নেওয়া হবে আইন অনুযায়ী।
সরকারপ্রধান জানান, টিকা সরবরাহের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা, মজুদ ব্যবস্থাপনা জোরদার, রোগ নজরদারি সম্প্রসারণ, দ্রুত প্রাদুর্ভাব শনাক্তকরণ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অংশীজনদের সঙ্গে সমন্বয় বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি হামের টিকাদানের আওতা বাড়াতে চলছে বিশেষ কার্যক্রমও।
দিনাজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মনজুরুল ইসলামের প্রশ্নের জবাব দেন প্রধানমন্ত্রী। বলেছেন, সরকারের ‘সবার জন্য স্বাস্থ্য’ নীতির আলোকে নিশ্চিত হবে সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা। পাবনা মানসিক হাসপাতালকে আন্তর্জাতিক মানে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
কুমিল্লা-১০ আসনের সংসদ সদস্য মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার প্রশ্ন করেছিলেন যোগাযোগ নিয়ে। প্রধানমন্ত্রীর জবাব, ‘দেশের সড়ক ও রেল যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে ব্যাপক পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। জাতীয় মহাসড়কগুলোয় পর্যায়ক্রমে এক্সপ্রেসওয়ে গ্রিড গড়ে তোলা, মাল্টিমোডাল পরিবহন ব্যবস্থা চালু, ওভারলোড নিয়ন্ত্রণে স্মার্ট মনিটরিংসহ জোরদার হবে সড়ক নিরাপত্তা।’
তিনি জানালেন, নির্মাণাধীন ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের সঙ্গে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের সংযোগ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা চলছে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের সঙ্গে।
রেলপথ আধুনিকায়নের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর ভাষ্য, ‘যাতায়াতের সময় কমানো এবং পরিবেশবান্ধব যোগাযোগ নিশ্চিত করতে প্রধান রুটগুলোয় ইলেকট্রিক ট্র্যাকশন চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে দেশের সব জেলা ও প্রধান শহরে রেলসেবা সম্প্রসারণ এবং আন্তঃনগর ও কমিউটার ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।’
ভোলা-৪ আসনের সংসদ সদস্য নূরুল ইসলাম নয়নের প্রশ্নের জবাব দেন সরকারপ্রধান। অর্থনৈতিক ও শ্রম কূটনীতিকে গুরুত্ব দিয়ে নতুন শ্রমবাজার অনুসন্ধান, দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং অভিবাসনসংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কাজ চলছে বলে আশ্বস্ত করেন।
মুন্সিগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল্লাহর প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছিলেন, ‘আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে কর-জিডিপি অনুপাত ১০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য। একই সঙ্গে ২০৩৫ সালের মধ্যে এ হার ১৫ শতাংশে উন্নীত করতে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বিভিন্ন উদ্যোগ।’
পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস প্রশ্ন করেছিলেন পানিসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে। সরকারপ্রধান জানান, ঢাকা ওয়াসার সরবরাহ করা পানির প্রায় ৬৫ থেকে ৭০ শতাংশ ভূগর্ভস্থ উৎস থেকে এবং অবশিষ্ট অংশ পদ্মা, মেঘনা ও শীতলক্ষ্যা নদীসহ ভূ-উপরিস্থ উৎস থেকে সংগ্রহ করা হয়।
তিনি মনে করিয়ে দেন, খুলনা ও বরিশালে নদীর পানিতে লবণাক্ততা থাকায় বড় আকারের পানি শোধনাগারসহ কাজ চলছে বিকল্প জলাধার নির্মাণের। ২০৩০ সালের মধ্যে বিভাগীয় শহরগুলোয় ভূগর্ভস্থ পানির পরিবর্তে ভূ-উপরিস্থ পানির ব্যবহার নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে সরকার।
গাজীপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য সালাহ উদ্দিনের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, ভবিষ্যতে হজের খরচ আরও কমানোর পরিকল্পনা সরকারের। রাষ্ট্রীয় ও কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে অব্যাহত থাকবে ব্যয় কমানোর চেষ্টা।
তার মতে, ২০২৬ সালে হজের খরচ কমানো হয়েছে ১১ হাজার ৭৫ টাকা। ২০২৭ সালে আরও যৌক্তিক পর্যায়ে রাখার চেষ্টা করা হবে প্যাকেজ মূল্য।
নেত্রকোনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মাছুম মোস্তফার প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, উপজেলা পর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র ও ইউনিয়ন পর্যায়ের স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্রগুলোয় বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে অনুমোদিত পদ আছে ১৭ হাজার ৮৭০। এর মধ্যে ১১ হাজার ৫০১ পদে জনবল থাকলেও এখনো শূন্য ৬ হাজার ৩৬৯ পদ।





