শিল্পকলা, শিশু একাডেমি নেতৃত্বহীন হয়ে চলবে কত দিন?
- শিল্পকলা ও শিশু একাডেমির মহাপরিচালক সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের দুই যুগ্ম সচিব
- কোথাও শীর্ষ পদ শূন্য, কোথাও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার মেয়াদ শেষ

সংগৃহীত ছবি
বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালকের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মোহা. হারুন-অর-রশীদ। তাকে এ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে গত ২১ সেপ্টেম্বর। শিল্পকলা একাডেমির কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা এই কর্মকর্তা মূলত প্রতিষ্ঠানের দাপ্তরিক কাজগুলো করছেন। নতুন কোনো উদ্যোগ বা চিন্তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না প্রতিষ্ঠানটিতে। গত এক মাসে দৃশ্যমান আয়োজনের মধ্যে আছে ফকির লালন সাঁইয়ের তিরোধান দিবস এবং সংগীতশিল্পী আব্বাসউদ্দীন আহমদ স্মরণানুষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটির কর্মীদের ভাষ্য, কার্যত স্থবির অবস্থায় রয়েছে শিল্পকলা একাডেমি।
মন্ত্রণালয়ের আদেশে অতিরিক্ত দায়িত্বের পরিধি নির্ধারণ করে বলা হয়েছে, নিয়মিত মহাপরিচালক যোগদান না করা পর্যন্ত হারুন-অর-রশীদ এ দায়িত্ব পালন করবেন। তিনি একাডেমির দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনার প্রয়োজনীয় আর্থিক ব্যয়, কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধসহ প্রশাসনিক কার্যাবলি বিধি অনুযায়ী সম্পন্ন করবেন।
গত ৩ অক্টোবর শিল্পকলা একাডেমির শিল্পী তালিকাভুক্তকরণ কার্যক্রমের অডিশন হওয়ার পূর্বনির্ধারিত তারিখও স্থগিত হয়েছে।
শুধু শিল্পকলা একাডেমি নয়, সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান বাংলা একাডেমি ও কবি নজরুল ইনস্টিটিউট এবং মহিলা ও শিশু মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বাংলাদেশ শিশু একাডেমিতে শূন্য রয়েছে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদ।
২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের পর দেশের গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রশাসনিক কাঠামোতে পরিবর্তন আসে। এসব প্রতিষ্ঠানের কোনো কোনো দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির মেয়াদ শেষ হলেও বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার নতুন কাউকে নিয়োগ দেয়নি। ফলে নেতৃত্বের সংকট কাটেনি। কোথাও শীর্ষ পদ শূন্য, কোথাও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার মেয়াদ শেষ, আবার কোনো প্রতিষ্ঠানে নেই কার্যকর পরিচালনা পর্ষদ। এতে প্রশাসনিক কার্যক্রম চললেও নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে তৈরি হয়েছে শূন্যতা।
বাংলাদেশ শিশু একাডেমিতে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর মহাপরিচালক ও চেয়ারম্যান পদে দায়িত্ব পালনকারীদের সরিয়ে দেওয়া হয়। পরে মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব আরজু আরা বেগমকে মহাপরিচালকের দায়িত্ব দেওয়া হয়। তবে চেয়ারম্যান পদে এখনো কাউকে মনোনীত করা হয়নি। ফলে কার্যত নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছে পরিচালনা বোর্ডের কার্যক্রম। এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের বৈঠকে বোর্ডের চারজন সদস্য মনোনীত করা হলেও চেয়ারম্যান নিয়োগের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
বাংলা একাডেমিতেও পদ শূন্য রয়েছে সভাপতির। অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৪ সালের ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ আজমকে প্রতিষ্ঠানটির মহাপরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেয়। ওই বছরের অক্টোবরে লেখক ও গবেষক অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হককে তিন বছরের জন্য বাংলা একাডেমির সভাপতি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। ২০২৬ সালের জুলাইয়ে আবুল কাসেম ফজলুল হকের মৃত্যুর পর থেকে শূন্য রয়েছে সভাপতির পদটি।
মহাপরিচালক পদে অধ্যাপক মোহাম্মদ আজমকেই বহাল রেখে সভাপতি পদের জন্য যোগ্য কাউকে খোঁজা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
জুলাই অভ্যুত্থানের পর শিল্পকলা একাডেমিতে প্রশাসনিক পরিবর্তনের ধারাবাহিকতায় দুই দফায় মহাপরিচালক পদে পরিবর্তন এসেছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে নিয়োগ পাওয়া নাট্যজন অধ্যাপক সৈয়দ জামিল আহমেদ ছয় মাসের মাথায় পদত্যাগ করেন। পরে মহাপরিচালকের দায়িত্ব নেন শেখ রেজাউদ্দিন আহমেদ (কবি রেজাউদ্দিন স্টালিন)। তার মেয়াদ শেষ হয়েছে গত ২১ সেপ্টেম্বর। অন্যদিকে শিল্পকলা একাডেমির সচিব জাকির হোসেনকে বদলি করা হয়েছে। সচিব পদে আরেকজনকে নিয়োগ করা হলেও তিনি যোগ দেননি। শিল্পকলায় নাট্যকলা, সংগীতসহ কয়েকটি বিভাগেও পরিচালকের পদ শূন্য রয়েছে বলে জানা গেছে।
কবি নজরুল ইনস্টিটিউটে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে গীতিকবি লতিফুল ইসলাম শিবলীকে ২০২৪ সালের ২২ সেপ্টেম্বর থেকে দুই বছরের চুক্তিতে নির্বাহী পরিচালক পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। গত সেপ্টেম্বরে তার চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়। এ পদেও নতুন কাউকে নিয়োগ দেওয়া হয়নি। জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রে আফসানা বেগমকে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় নিয়োগ দেওয়ার পর অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল। পরে সেখানে কবি সাখাওয়াত টিপুকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। বিএনপি সরকার গঠনের পর সাখাওয়াত টিপুকে বাদ দিয়ে ফিরিয়ে এনেছে আফসানা বেগমকে।
সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রশাসনিক কাঠামোর শীর্ষ পদে নিয়োগের বিষয়ে জানতে চাইলে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম আগামীর সময়কে বললেন, ‘এ ব্যাপারটি নিয়ে আমরা কাজ করছি। পূজার কারণে কয়েকদিন ছুটি ছিল। এখন আবার অফিস চালু হয়েছে। আশা করি, দ্রুতই এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হয়ে যাবে।’



