‘মোহন রায়হানকে অন্তর্ভুক্ত’ করায় শিল্পী কল্যাণ ট্রাস্ট থেকে সাইয়েদ জামিলের পদত্যাগ

সাইয়েদ জামিল। ছবি : সংগৃহীত
বাংলাদেশ শিল্পী কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন সাইয়েদ জামিল। আজ মঙ্গলবার সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ শিল্পী কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে তিনি পদত্যাগপত্র জমা দেন।
সাইয়েদ জামিল আগামীর সময়কে বলেছেন, ‘আমি ডাকযোগে পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছি। ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের হোয়াটসঅ্যাপেও পাঠিয়েছি। ট্রাস্টে সম্প্রতি মোহন রায়হানকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যাকে আমি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের আদর্শ ও চেতনার বিরোধী বলে মনে করি।’
পদত্যাগপত্রে তিনি লিখেছেন, ‘চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের ফলে সরকার ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ট্রাস্টি বোর্ড পুনর্গঠন করে। পুনর্গঠিত সেই ট্রাস্টি বোর্ডে জুলাই গাদ্দার মোহন রায়হান ছিলেন না।’
পদত্যাগের কারণ ব্যাখ্যা করে সাইয়েদ জামিল আরও জানান, আমি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পক্ষে অবস্থানকারী একজন মানুষ। আমার নৈতিক ও রাজনৈতিক বিশ্বাস হলো, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পক্ষে। বিপক্ষে অবস্থানকারী শক্তি একই নীতি, আদর্শ ও মূল্যবোধের প্রতিনিধিত্ব করতে পারে না। সেই কারণে, একই ট্রাস্টে মোহন রায়হানের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করা আমার বিবেক ও নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
বাংলাদেশ শিল্পী কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাওয়াল খানম আগামীর সময়কে জানালেন, তিনি পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন। এ বিষয়টি নিয়ে এখন মিটিংয়ে আলাপ হবে। এরপর যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
কবি মোহন রায়হান জাতীয় কবিতা পরিষদের সভাপতি। সম্প্রতি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দুই বছর উপলক্ষে বাংলা একাডেমি আয়োজিত স্বরচিত কবিতাপাঠ অনুষ্ঠানে কবি মোহন রায়হানের কবিতা পাঠে দেওয়ার ঘটনাও ঘটে। অনুষ্ঠানে জাতীয় কবিতা পরিষদের সভাপতি মোহন রায়হান ‘জুলাই এখন’ শীর্ষক কবিতা পাঠ শুরু করলে তাকে ‘জুলাইবিরোধী’ আখ্যা দিয়ে বাধা দেন কয়েকজন। এ সময় ‘ইনকিলাব ইনকিলাব, জিন্দাবাদ জিন্দাবাদ’, ‘আবু সাঈদ মুগ্ধ, শেষ হয়নি যুদ্ধ’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়।
কবিতা পাঠের একপর্যায়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শ্রম সংগঠন শ্রমিক শক্তির কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক আহমেদ ইসহাক মঞ্চে উঠে মোহন রায়হানের হাত থেকে মাইক্রোফোন কেড়ে নেন। আহমেদ ইসহাকও কবি হিসেবে এ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত ছিলেন।




