সংস্কৃতিকর্মীদের জাতীয় কনভেনশন
‘কণ্ঠে মোদের কুণ্ঠাবিহীন নিত্যকালের ডাক’

ছবি: আগামীর সময়
‘কণ্ঠে মোদের কুণ্ঠাবিহীন নিত্যকালের ডাক’ প্রতিপাদ্যে লেখক, শিল্পী ও সংস্কৃতিকর্মীদের জাতীয় কনভেনশন অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ শুক্রবার সকাল ১০টায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালায় গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক ঐক্যের উদ্যোগে আয়োজিত এ কনভেনশনে ৪৫ জেলা থেকে প্রায় ৫৫০ জন সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি অংশ নেন। শিক্ষক, মানবাধিকারকর্মী, রাজনৈতিক কর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষও এতে যুক্ত হন।
জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে কনভেনশনের উদ্বোধন করেন লেখক ও সাংবাদিক নুরুল কবীর। পরে সংস্কৃতিকর্মীদের শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক ঐক্যের আহ্বায়ক জামশেদ আনোয়ার তপনের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব মফিজুর রহমান লালটুর সঞ্চালনায় শুরু হয় কনভেনশনের কার্যক্রম। গণসংগীত, কবিতা আবৃত্তি ও প্রতিবাদী সাংস্কৃতিক স্কোয়াডের পাহাড়ি নৃত্য পরিবেশিত হয়।
প্রথম অধিবেশনে বক্তব্য দেন নুরুল কবীর, অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ, দীপা দত্ত, বাউলশিল্পী আবুল সরকার, রণজিৎ চট্টোপাধ্যায়, কবি মোহন রায়হান ও নৃত্যশিল্পী সংস্থার সাধারণ সম্পাদক সাজু আহমেদ। বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের জাকির হোসেন, প্রগতি লেখক সংঘের দীনবন্ধু দাশ, যাত্রা শিল্পী উন্নয়ন পরিষদের এস এম লাভলু, সমাজ চিন্তা ফোরামের কামাল হোসেন বাদল ও সমাজ অনুশীলন কেন্দ্রের বিমল কান্তি।
জামশেদ আনোয়ার তপন বলেন, গণঅভ্যুত্থানে সংস্কৃতিকর্মীরা কারফিউ ভেঙে গানের মিছিল ও দ্রোহযাত্রা করেছেন। ফ্যাসিবাদী সরকারের পতন হলেও শাসনব্যবস্থা ও সাংস্কৃতিক আধিপত্যের অবসান হয়নি। মানবিক, গণতান্ত্রিক ও বৈষম্যহীন সমাজ নির্মাণে সংস্কৃতিকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়া জরুরি।
নুরুল কবীর বলেন, ‘৬৯, ৯০ ও ২৪-এর পর একইভাবে গণতান্ত্রিক রূপান্তরের আকাঙ্ক্ষা হাতছাড়া হয়েছে। ইতিহাস পরিবর্তনে সাংস্কৃতিক জাগরণকে রাজনৈতিক শক্তিতে রূপান্তর করতে হবে।’
আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘সাংস্কৃতিক লড়াই চিন্তা ও চৈতন্যের লড়াই। সাম্প্রদায়িকতা, আধিপত্য ও সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে এ লড়াই প্রতিদিনের। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে গ্রাফিতি ও গানের মাধ্যমে সংস্কৃতির শক্তি প্রকাশ পেয়েছে।’ তিনি সাংস্কৃতিক কর্মীদের আরও সংগঠিত হওয়ার আহ্বান জানান।
বাউলশিল্পী আবুল সরকার বলেন, গানই তার অস্ত্র। স্বাধীনভাবে গান, নাচ ও কথা বলতে পারলেই তিনি প্রকৃত মুক্তি পাবেন। এ সময় তিনি জেলখানায় লেখা ‘তুমি জানো কি বন্ধু, মানো কি বন্ধু, এই মানুষ তো মানুষের জন্য’ গানটি পরিবেশন করেন।
এ ছাড়া রণজিৎ চট্টোপাধ্যায়, মোহন রায়হান, সাজু আহমেদ ও দীপা দত্ত বক্তব্যে প্রগতিশীল সংস্কৃতি, শিল্পচর্চার স্বাধীনতা, গণতান্ত্রিক অধিকার ও সাংস্কৃতিক ঐক্যের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।



