শিল্পকলায় মহাপরিচালকের অতিরিক্ত দায়িত্বে হারুন-অর-রশীদ

হারুন-অর-রশীদ
বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালকের অতিরিক্ত দায়িত্ব পেয়েছেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মোহা. হারুন-অর-রশীদ।
সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ২১ সেপ্টেম্বর এক অফিস আদেশে জানিয়েছে, পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিজ দায়িত্বের অতিরিক্ত হিসেবে মোহা. হারুন-অর-রশীদকে মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালকের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
আদেশে বলা হয়, নিয়মিত মহাপরিচালক যোগদান না করা পর্যন্ত মোহা. হারুন-অর-রশীদ এ দায়িত্ব পালন করবেন। দায়িত্ব পালনকালে একাডেমির দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনার প্রয়োজনীয় আর্থিক ব্যয়, কর্মচারীদের বেতন-ভাতাদি পরিশোধসহ প্রশাসনিক কার্যাবলি বিধি অনুযায়ী সম্পন্ন করবেন তিনি।
২০২৫ সালের ২১ সেপ্টেম্বর মহাপরিচালক পদে শেখ রেজাউদ্দিন আহমেদকে (কবি রেজাউদ্দিন স্টালিন) এক বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়েছিল সরকার। তার মেয়াদ পূর্ণ হওয়ায় মহাপরিচালকের পদটি শূন্য হয়।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর মহাপরিচালকের পদ ছাড়েন লিয়াকত আলী লাকী। এর আগে দীর্ঘ সময় তিনি এ দায়িত্বে ছিলেন। ২০১১ সালে শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর বিভিন্ন সময়ে তাকে অপসারণের দাবি ওঠে। দুর্নীতির অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করার কথাও জানা যায়। ২০২৩ সালে সপ্তমবারের মতো তার মেয়াদ বাড়ানো হয়, যা ছিল নজিরবিহীন।
গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর হোয়াটসঅ্যাপে লিয়াকত আলী লাকী মন্ত্রণালয়ে পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছিলেন বলে তখনকার সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব খলিল আহমেদ সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন। লাকী উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগের কথা উল্লেখ করেছিলেন।
ওই বছরের ৯ সেপ্টেম্বর মহাপরিচালক পদে নাট্যনির্দেশক ও গবেষক অধ্যাপক সৈয়দ জামিল আহমেদকে দুই বছরের জন্য নিয়োগ দেওয়া হয়। তবে ২০২৫ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি মহাপরিচালক পদ থেকে পদত্যাগ করেন সৈয়দ জামিল আহমেদ। এরপর ৪ মার্চ ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক হিসেবে মোহাম্মদ ওয়ারেছ হোসেনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়।
ওয়ারেছ হোসেনকে সরিয়ে প্রায় ছয় মাস পর ১৪ সেপ্টেম্বর সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আবুল ফয়েজকে শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালকের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়। তিনি প্রায় এক সপ্তাহ দায়িত্ব পালন করেন। এরপর ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পান রেজাউদ্দিন স্টালিন।



