বিশ্ব সংগীত দিবসে আর্টিস্ট ক্লাবে মুগ্ধতার ‘মিউজিক্যাল মেহফিল’

বিশ্ব সংগীত দিবসের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ফরাসি রাষ্ট্রদূত জঁ-মার্ক সের-শারলে- সংগৃহীত
বিশ্ব সংগীত দিবস উপলক্ষে আর্টিস্ট ক্লাব লিমিটেডের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলো এক মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা। রাজধানীর বনানীতে অবস্থিত আর্টিস্ট ক্লাব লাউঞ্জে আয়োজিত বিশেষ অনুষ্ঠান ‘সন্ধ্যা প্রদীপ’-এ সংগীত পরিবেশন করে দেশের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক সংগঠন ঢাকা ইউনিভার্সিটি কালচারাল ফাউন্ডেশন (ডিইউসিএফ)। অনুষ্ঠানটি উপভোগ করতে উপস্থিত ছিলেন কূটনীতিক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, শিল্পী, গণমাধ্যমকর্মী এবং বিপুল সংখ্যক সংগীতপ্রেমী দর্শক।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকায় নিযুক্ত ফরাসি রাষ্ট্রদূত জঁ-মার্ক সের-শারলে। বিশ্ব সংগীত দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে তিনি বললেন, ‘সংগীত এমন একটি সর্বজনীন ভাষা, যা সংস্কৃতি, জাতি ও ভৌগোলিক সীমারেখা অতিক্রম করে মানুষকে একত্রিত করে। বাংলাদেশ ও ফ্রান্সের মধ্যকার সাংস্কৃতিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে এ ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’
স্বাগত বক্তব্যে আর্টিস্ট ক্লাব লিমিটেডের সভাপতি সুজিত মুস্তাফা বলেছেন, ‘শিল্প-সংস্কৃতির বিকাশে আর্টিস্ট ক্লাব সবসময়ই সৃজনশীল উদ্যোগের পাশে রয়েছে। বিশ্ব সংগীত দিবসে ডিইউসিএফের মতো একটি ঐতিহ্যবাহী সংগঠনকে স্বাগত জানাতে পেরে আমরা আনন্দিত। ভবিষ্যতেও এ ধরনের আন্তর্জাতিক মানের সাংস্কৃতিক আয়োজন অব্যাহত থাকবে।’
আরও বক্তব্য রাখেন আর্টিস্ট ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মারুফ কবির ও ডিইউসিএফের প্রতিষ্ঠাতা এবং আর্টিস্ট ক্লাবের নির্বাহী সদস্য অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান।
অনুষ্ঠানে ডিইউসিএফের শিল্পীরা দর্শকদের সঙ্গে একাত্ম হয়ে পরিবেশন করেন একটি প্রাণবন্ত ও ইন্টার্যাকটিভ ‘মিউজিক্যাল মেহফিল’। দলীয় ও একক পরিবেশনার মাধ্যমে তারা বাংলা আধুনিক, লোকসংগীত, দেশাত্মবোধক এবং জনপ্রিয় বিভিন্ন গান পরিবেশন করেন। শিল্পীদের পরিবেশনা, দর্শকদের অংশগ্রহণ এবং প্রাণবন্ত সাংস্কৃতিক আবহ পুরো সন্ধ্যাকে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দেয়। প্রতিটি পরিবেশনার পর দর্শকদের উচ্ছ্বসিত করতালি অনুষ্ঠানটিকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।
অনুষ্ঠান শুরু হয় ব্যতিক্রম ধর্মী পুথি পাঠের মাধ্যমে, ডিইউসিএফকে উপস্থাপন করা হয়। প্রথম গান শুরু হয় কবি নজরুল ইসলামের একটি কোরাস ‘মোরা ঝঞ্ঝার মতো উদ্দাম’ দিয়ে। পর্যায়ক্রমে জনপ্রিয় আধুনিক গান করেন নির্ঝর চৌধুরী, ইরাবতি মন্ডল, আনিকা শারমিলা কৃপা ও ফরহাদ মিল্টন। নজরুল ইসলামের গান করেন নন্দিত শিল্পী নন্দিনী দও ধরা। পল্লী গীতি ও উকিল মুন্সীর গান করেন মাহফুজার রহমান মহব্বত। রবি ঠাকুরের গান করেন নাঈমা ইসলাম নাজ। অনুষ্ঠান শেষ হয় ‘আগুনের পরশমণি ছোঁয়াও প্রাণে’ সমেবেত সংগীত পরিবেশন মাধ্যমে।
নান্দনিক পরিবেশনার জন্য ডিইউসিএফকে বিশেষ ধন্যবাদ জানান সভাপতি সুজিত মোস্তফা।




