বাংলা একাডেমিতে সেমিনার সিরিজ
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়, রফিক আজাদ ও চন্দ্রাবতীকে স্মরণ

আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠান। ছবি : আগামীর সময়
কথাসাহিত্যিক মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়, কবি রফিক আজাদ এবং কবি চন্দ্রাবতী স্মরণে সেমিনার সিরিজ আয়োজন করেছে বাংলা একাডেমি। গতকাল সোমবার একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে হয় এই আয়োজন।
‘মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাসে দাম্পত্যজীবনের রূপায়ণ’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন লেখক ও গবেষক ড. উপল তালুকদার। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন কথাসাহিত্যিক ইমতিয়ার শামীম।
সভাপ্রধানের দায়িত্ব পালন করেন প্রাবন্ধিক ও গবেষক অধ্যাপক ভীষ্মদেব চৌধুরী। প্রাবন্ধিক ভীষ্মদেব চৌধুরী বলেছেন, মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় আমাদের কথাসাহিত্যের কিংবদন্তি নাম। তার গল্প-উপন্যাসে জীবনের গভীর উন্মোচন দেখতে পাওয়া যায়।
‘দাম্পত্যজীবনের রূপায়ণে অভূতপূর্ব নিজস্বতার স্বাক্ষর রেখেছেন তিনি। উচ্চ-মধ্য-নিম্নবিত্ত সব সংসারের নেপথ্যেই শ্রেণিগত যে প্রপঞ্চ কাজ করেছে মানিক-সাহিত্যে; তা টের পাওয়া যায়’, যোগ করেন অধ্যাপক ভীষ্মদেব চৌধুরী।
‘রফিক আজাদের কবিতা : চৈতন্যের কোলাজ’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কবি ও সমালোচক চঞ্চল আশরাফ। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন কবি হিজল জোবায়ের। সভাপ্রধানের দায়িত্ব পালন করেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম।
প্রাবন্ধিক মোহাম্মদ আজম বলেছেন, রফিক আজাদের কবিতা বাংলা কবিতার নতুন দিগ্বলয় যেন। তিনি বিদ্রোহ ও প্রেমের রঙে বর্ণিল করেছেন কবিতার ক্যানভাস। সকল মানুষের জন্য সুষম জীবন চেয়েছেন, পরিবেশ-প্রকৃতির সুরক্ষা চেয়েছেন, যুদ্ধের বদলে শান্তি চেয়েছেন।
‘চৈতন্যের গভীরে গিয়ে স্পর্শ করে রফিক আজাদের অভিনতুন উচ্চারণ যেখানে ভাষা-বিষয়-শৈলী সবকিছুরই নতুনতার শর্ত দারুণভাবে উপস্থিত’, বলছিলেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক।
‘চন্দ্রবতীর গীতিকায় রমণীয় স্বৈরিতা আর নারী-অস্তিত্বের শাঁস’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন গবেষক অধ্যাপক সুস্মিতা চক্রবর্তী। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন চলচ্চিত্র নির্মাতা এন. রাশেদ চৌধুরী।
সভাপ্রধানের দায়িত্ব পালন করেন গবেষক ও নির্মাতা ড. ইউসুফ হাসান অর্ক। প্রাবন্ধিক বলেছেন, চন্দ্রাবতী আমাদের পথিকৃৎ নারী যিনি সমসাময়িক বৈরিতা উপেক্ষা করে নারীর বৈজয়ন্তী ঘোষণা করেছেন তার কালজয়ী সৃষ্টিতে। তার গীতিকায় উচ্চারিত হয়েছে মানবমঙ্গলের গান। সুন্দর ধরিত্রীর জন্য আকুলতায় ভরপুর তার অক্ষরেরা। চন্দ্রাবতীকে নিয়ে বিস্তৃত গবেষণার অবকাশ রয়েছে।
অনুষ্ঠানে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন একাডেমির পরিচালক ও সচিব সমীর কুমার সরকার। প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব কানিজ মওলা। সঞ্চালনা করেন বাংলা একাডেমির উপপরিচালক সায়েরা হাবীব ও সহপরিচালক মাহবুবা রহমান।




