যে জাতি সঙ্গীতকে গুরুত্ব দেয়, তারা উন্নত মানসিকতার : সংস্কৃতিমন্ত্রী

সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী- আগামীর সময়
আষাঢ়ের বৃষ্টিকে উপেক্ষা করে ঢাকঢোল বাদন ও শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে শুরু হলো বিশ্বসংগীত দিবস উদযাপন। আজ রবিবার বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে জাতীয় নাট্যশালায় শুরু হয় দুই দিনব্যাপী ‘সঙ্গীত উৎসব’।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেছেন, ‘যে জাতি সঙ্গীতকে যত বেশি গুরুত্ব দেয়, সে জাতি তত বেশি উন্নত মানসিকতার পরিচয় বহন করে। ভাষা ভিন্ন হলেও সুর ও রাগের মূর্ছনা পৃথিবীর সব মানুষই বুঝতে পারে। পাখির কণ্ঠে, পাতা ঝরার শব্দে, জলতরঙ্গে কিংবা পর্বত থেকে নেমে আসা ঝরনার ধারায় প্রকৃতির মাঝ থেকেই সুর ও মূর্ছনার সৃষ্টি হয়েছে। সঙ্গীত এক দেশ থেকে অন্য দেশে, মানুষ থেকে মানুষের মাঝে নিবিড় বন্ধন তৈরি করে। আমাদের দর্শন, শিল্প, সাহিত্য ও ঐতিহ্যের মধ্যে সঙ্গীতকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।’
বিকালে সঙ্গীত ও নৃত্যকলা প্রাঙ্গণ থেকে শোভাযাত্রা বের হয়ে জাতীয় নাট্যশালা প্রাঙ্গণে শেষ হয়। এরপর জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনের প্রবেশমুখে বেলুন উড়ানোর মাধ্যমে উৎসবের শুভ সূচনা করা হয়। জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনের লবিতে পিয়ানো বাদনের মাধ্যমে ‘আগুনের পরশমনি’, ‘বাগিচায় বুলবুলি তুই’, ‘আকাশে আজ ছড়িয়ে দিলাম প্রিয়’ সঙ্গীত পরিবেশিত হয়।
সন্ধ্যায় জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সংস্কৃতিমন্ত্রী বলেছেন, ‘গান হলো ফুলের মতো। যারা ফুলকে ভালোবাসে না, তারা যেকোনো নির্মম অপরাধও করতে পারে। পৃথিবীর বুকে মানুষের ভাষা সৃষ্টির আগেই গানের জন্ম হয়েছে।’
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব কানিজ মওলা। স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক শেখ রেজাউদ্দীন আহমেদ (রেজাউদ্দীন স্টালিন)।
সঙ্গীত সন্ধ্যার পরিবেশনায় অংশ নেন কণ্ঠশিল্পী আগুন, মেহরীন, ফাহমিদা নবী, আলিফ আলাউদ্দিন, পলাশ নূর, সাব্বির জামান। অনুষ্ঠানে চীন ও জাপান দূতাবাসের আমন্ত্রিত শিল্পীরাও সঙ্গীত পরিবেশন করেন। সব শেষে ব্যান্ডসঙ্গীত পরিবেশন করেন ইথুন বাবু এন্ড ফ্রেন্ডস, অনিমেষ এন্ড ফ্রেন্ডস এবং অংকন কুমার। দুই দিনব্যাপী এই উৎসব আগামীকাল সোমবার শেষ হবে।





