‘ফজলুল হকের মতো ব্যক্তিত্বের কোনো বিকল্প হয় না’

স্মৃতিকথা ও সংগীতে অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হকের স্মরণসভা—ছবি: আগামীর সময়
স্মৃতিকথা ও সংগীত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে বরেণ্য চিন্তাবিদ অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হককে স্মরণ করা হয়েছে। আজ শনিবার বিকালে রাজধানীর ডেইলি স্টার সেন্টারে স্মরণসভার আয়োজন করে ডেইলি স্টার।
অনুষ্ঠানের শুরুতে অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক এবং সাম্প্রতিক বন্যায় নিহতদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। এরপর সানজিদা ইসলাম কাজী নজরুল ইসলামের ‘আমি চিরতরে চলে যাব, তবু আমারে দেব না ভুলিতে’ গানটি পরিবেশন করেন।
স্মরণসভায় গবেষক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমদ বললেন, ‘আবুল কাসেম ফজলুল হক স্যারকে আমি কখনো উত্তেজিত বা রেগে যেতে দেখিনি। রাজনৈতিক নানা চড়াই-উতরাই ও মতভিন্নতার মধ্যেও তিনি সবসময় অমায়িক ও বিনয়ী ছিলেন। তিনি প্রায়ই আমাকে ফোন করে লেখালেখির বিষয়ে গঠনমূলক পরামর্শ দিতেন।’
‘আমাদের সময়ে তার মতো একজন মানুষ পাওয়া সত্যিই সৌভাগ্যের। অনেকেই ‘অপূরণীয় ক্ষতি’ কথাটি ব্যবহার করেন। সব ক্ষেত্রে তা সত্যি না হলেও ফজলুল হক স্যারের ক্ষেত্রে এটি একেবারেই যথার্থ। তার মতো ব্যক্তিত্বের কোনো বিকল্প হয় না। তার মতো আরেকজন মানুষ কবে তৈরি হবে, তা আমরা জানি না।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক সৈয়দ আজিজুল হক বললেন, ‘আমি স্যারের সহকর্মী ছিলাম। তার চেয়ে বড় পরিচয়, আমি তার ছাত্র। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে স্যারের কোনো ক্লাস আমি মিস করিনি।’
সাহিত্যিক মোরশেদ শফিউল হাসান বললেন, ‘স্যারের ছেলে দীপন নিহত হওয়ার পর অনেক দিন আমরা তার কাছে যেতে পারিনি। নানা অস্বস্তি কাজ করছিল। কিন্তু সে সময় স্যারের যে অভিব্যক্তি দেখেছি, তা তার মহত্বকে আরও বড় করে তুলে ধরে। তিনি বিশ্বাস করতেন, সাংস্কৃতিক বিপ্লব ছাড়া কোনো পরিবর্তন টেকসই হতে পারে না। তাকে পাঠের মধ্য দিয়েই প্রকৃত শ্রদ্ধা জানানো সম্ভব।’
আবুল কাসেম ফজলুল হকের মেয়ে শুচিতা শারমিন বললেন, ‘আমার বাবা কখনো বৈষয়িক মানুষ ছিলেন না। দলীয় রাজনীতির সঙ্গেও সম্পৃক্ত ছিলেন না। তিনি সবসময় এ দেশের মানুষের বোধোদয় ও কল্যাণ চেয়েছেন। তিনি বলতেন, সমাজ ও মানুষের কল্যাণে কাজ করে যেতে হবে, প্রাপ্তির হিসাব করা যাবে না। তিনি শিক্ষার্থীদের উৎসাহ দিতে বলতেন। কারণ গঠনমূলক আচরণই মানুষকে এগিয়ে নেয়। ইতিহাসের শিক্ষাকে তিনি খুব গুরুত্ব দিতেন। তার বিশ্বাস ছিল, ইতিহাসকে অবহেলা করলে ভবিষ্যৎ নিয়েও সঠিকভাবে ভাবা যায় না। ইতিহাসের ধারাবাহিকতার মধ্য দিয়েই বর্তমান নির্মিত হয় এবং ভবিষ্যতের ভিত্তি তৈরি হয়। আমরা তার সেই আদর্শ ও ভাবনাকেই ধারণ করে এগিয়ে যেতে চাই।’
সংগঠক ফয়জুল হাকিম বললেন, ‘সংগঠন গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তিনি সবসময় বুদ্ধিবৃত্তিক পরামর্শ দিতেন। তরুণদের তিনি খুব ভালোবাসতেন। তার পরামর্শ তরুণদের মনন গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।’
ইমরান মাহফুজের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত স্মরণসভায় ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনাম উপস্থিত ছিলেন।




