বহ্নিশিখার ‘নদী আখ্যান’

সাংস্কৃতিক সংগঠন বহ্নিশিখার আয়োজন। ছবি : সংগৃহীত
রাজধানীর ছায়ানট সংস্কৃতি-ভবন মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হলো সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘বহ্নিশিখা’র নতুন সুর, কবিতা ও নৃত্যানুষ্ঠান ‘নদী আখ্যান’। গতকাল শনিবার সন্ধ্যার এ আয়োজনে মানুষের জীবনযাত্রা ও সভ্যতার বিবর্তনে নদীর ভূমিকা এবং দখল ও দূষণে নদীর অস্তিত্ব সংকটের বার্তা তুলে ধরা হয়।
আয়োজনটি গদ্যময় কথামালা, একক ও দলীয় পরিবেশনার মধ্য দিয়ে উপস্থাপিত হয়। অনুষ্ঠানের সূচনায় থিমেটিক পরিবেশনা ‘নদীর কুল নাই কিনার নাই’-এর মাধ্যমে মূল মঞ্চের পর্দা ওঠে। এরপর দেশের প্রধান সাতটি নদীকে কেন্দ্র করে সাজানো বিভিন্ন পরিবেশনায় অংশ নেন বহ্নিশিখার শিল্পীরা।
অনুষ্ঠানটির পরিকল্পনায় ছিলেন গোলাম কুদ্দুছ, সংগীত পরিচালনায় আবিদা রহমান সেতু এবং নৃত্য পরিচালনায় সাহিদা রহমান সুরভী। সঞ্চালনা করেন মাহফুজা আক্তার মিরা। অনুষ্ঠান চলাকালে সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য প্রয়াত শহিদুল হাসান শাহীর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানানো হয়।
‘নদী কথন—পদ্মা’ পর্বে সাংস্কৃতিক সংগঠক কামাল বায়োজীদের কথামালার পর বাবু সেলাম বারেবারের কণ্ঠে একক গান ‘পদ্মার ঢেউ রে’ এবং জুঁই দেবী সূত্রধর ও সহশিল্পীদের দলীয় নৃত্য পরিবেশিত হয়। ‘নদী কথন—মেঘনা’ পর্বে মানজার চৌধুরী সুইটের কথামালায় মোহনা দাস পরিবেশন করেন ‘হৃদয়ের একুল ওকুল’, আবিদা রহমান সেতু পরিবেশন করেন ‘নদীর পানি উথাল পাথাল’ এবং মাহফুজা আক্তার মিরা আবৃত্তি করেন ‘মেঘনার ঢল’।
‘নদী কথন—যমুনা’ পর্বে কথামালা উপস্থাপন করেন সাংস্কৃতিক সংগঠক ও নৃত্যশিল্পী মাহফুজা আক্তার মিরা। এ পর্বে শিমুল সাহা ও সাহিদা রহমান সুরভীর দ্বৈত পরিবেশনায় ছিল ‘ও আমার মন যমুনা’। এছাড়া রাহুল রায় ও নিঝর দাশ গল্পের দ্বৈত গান ‘বাঁকা নদীর তুফান সামলেছে’ এবং দলীয় সংগীত ‘এ নদী এমন নদী’ দর্শকদের মুগ্ধ করে।
পরবর্তী পর্বে ‘নদী কথন—সুরমা’ নিয়ে আসেন সংগীতশিল্পী কাজী মিজানুর রহমান। এ পর্বে তুর্য নন্দী ও মেহেদী সরকারের দ্বৈত কণ্ঠে ‘আমায় ভাসাইলি রে আমায় ডুবাইলি রে’, নিঝর দাশ গল্পের গান এবং ‘সুরমা নদীর গাঙচিল আমি’ গানের সঙ্গে দলীয় নৃত্য পরিবেশিত হয়।
‘নদী কথন—কর্ণফুলী’ পর্বে রওশন জান্নাত রুশনীর উপস্থাপনায় ছিল আবিদা রহমান সেতুর একক গান ‘কর্ণফুলী রে সাক্ষী রাখিলাম তোরে’, তারেক আলী মিলনের আবৃত্তি এবং দলীয় নৃত্য।
‘নদী কথন—রূপসা’ পর্বে ফয়জুল আলম পাপ্পুর কথামালায় শারমিন আক্তার শারুন পরিবেশন করেন ‘না মন লাগেনা’, ‘ওরে নীল দরিয়া’ এবং ‘রূপসা নদীর নাও সুজন মাঝির’ গান। ‘নদী কথন—তিস্তা’ পর্বে মাহমুদা সিদ্দিকা সুমির আবৃত্তি ও কথামালার সঙ্গে শিমুল সাহার গান ‘আষাঢ় মাইসা ভাসা পানি রে’ এবং দলীয় পরিবেশনা ছিল।
অনুষ্ঠানের চূড়ান্ত পর্বে সব শিল্পীর সমবেত কণ্ঠ ও কোরিওগ্রাফিতে পরিবেশিত হয় কালজয়ী গান ‘এই পদ্মা এই মেঘনা এই যমুনা’।



