শতবর্ষে কাণ্ডারী হুঁশিয়ার, মুক্তির দিশা ও সম্প্রীতির আহ্বান

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম।
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের লেখা ‘কাণ্ডারী হুঁশিয়ার’ কবিতার শতবর্ষ উদযাপনে সরকারসহ দেশের সকল সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ১৪টি সাংস্কৃতিক সংগঠন। একই সঙ্গে ‘কাণ্ডারী হুঁশিয়ার’ গান ও কবিতার শতবর্ষ পালনে নিজেরাও উদ্যোগী হওয়ার প্রত্যয় ঘোষণা করেছে তারা।
বিবৃতিদাতাদের মধ্যে রয়েছে– বাংলাদেশ নজরুলসংগীত সংস্থা, জাতীয় রবীন্দ্রসংগীত সম্মিলন পরিষদ, বাংলাদেশ গণসংগীত সমন্বয় পরিষদ, জাতীয় রবীন্দ্রসংগীতশিল্পী সংস্থা, বাংলাদেশ সঙ্গীত সংগঠন সমন্বয় পরিষদ, বাংলাদেশ আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদ, জাতীয় শিক্ষা ও সংস্কৃতি রক্ষা আন্দোলন, বাংলাদেশ উদীচী শিল্পী গোষ্ঠী, সমগীত, সুর সপ্তক, নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোট, আনন্দধারা (নারায়ণগঞ্জ), বসন্তবাহার সঙ্গীত একাডেমি এবং কেন্দ্রীয় খেলাঘর আসর।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্মজয়ন্তী উদযাপনে দেশব্যাপী নানা আয়োজনের এই শুভক্ষণে আমরা বর্তমান সংকটময় সামাজিক বাস্তবতায় মানবতাবাদী বিদ্রোহী কবির সৃষ্টিসম্ভারের প্রাসঙ্গিকতা বিশেষভাবে স্মরণ করি। এই পরিপ্রেক্ষিতে চলতি বছর নজরুলের কালজয়ী ‘দুর্গম গিরি, কান্তার-মরু, দুস্তর পারাবার’ এর শতবর্ষ পূর্তির প্রতি দেশবাসীর দৃষ্টি বিশেষভাবে আকর্ষণ করছি।
‘কাণ্ডারী হুঁশিয়ার’ লেখার প্রেক্ষাপট স্মরণ করে বলা হয়, ১৯২৬ সালে আত্মধ্বংসী সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় ক্ষুব্ধ ও বিচলিত নজরুল তাৎক্ষণিকভাবে গানটি লেখেন ও তাতে সুরারোপ করেন। ২২ মে কৃষ্ণনগরে আয়োজিত প্রাদেশিক সম্মিলনীতে তিনি গানটি গেয়ে শোনান। ‘কাণ্ডারী হুঁশিয়ার’ শিরোনামে বঙ্গবাণীতে প্রকাশিত হয় গানটি এবং সেপ্টেম্বর মাসে কালিকলমে প্রকাশিত হয় গানের নজরুলকৃত স্বরলিপি। একই বছরের জুন মাসে নজরুল ঢাকায় আসেন এবং মুসলিম সাহিত্য সমাজের বার্ষিক অধিবেশনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এই গান পরিবেশন করেন।
বর্তমান সময়ে এর প্রাসঙ্গিকতা তুলে ধরে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আজকে ধর্মাদর্শকে বিকৃত করে অধর্মাচার যখন মাথা চাড়া দিয়ে উঠছে, সমাজমানস কলুষিত করে হিংসা বিদ্বেষ ও ঘৃণা সঞ্চার করছে এবং অপর ধর্ম, অপর বিশ্বাস ও অপর আচারকে সহিংসভাবে আঘাত হানছে তখন নজরুলের ‘কাণ্ডারী হুঁশিয়ার’ আমাদের সতর্ক করে দিচ্ছে। এই গানের শতবর্ষ উদযাপনের মধ্য দিয়ে আমরা মুক্তির দিশা খুঁজে পেতে পারি। সেইসাথে আমরা স্মরণ করি একই বছর রচিত নজরুলের প্রবন্ধ ‘মন্দির ও মসজিদ’– যেখানে তিনি লিখেছেন, ‘যে নিজের ধর্মের সত্যকে চিনেছে, সে কখনও অন্য ধর্মকে ঘৃণা করতে পারে না’।




