সাংস্কৃতিক স্বাধীনতায় বাধা
চলচ্চিত্র ও বাউল গান বন্ধে আসকের উদ্বেগ

ছবি: আগামীর সময়
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ সিনেমা প্রদর্শন বন্ধ ও নেত্রকোনায় বাউল গানের আয়োজন বন্ধের ঘটনায় আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) গভীর উদ্বেগ ও নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে।
আজ মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে আসক বলছে, সাংস্কৃতিক আয়োজন বা শিল্পচর্চার বিষয়ে ভিন্নমত বা সমালোচনা গণতান্ত্রিক অধিকার হলেও, ভয়ভীতি, চাপ সৃষ্টি, প্রচারণা বা অবৈধ প্রভাব খাটিয়ে কোনো আইন ও অধিকার সম্মত সাংস্কৃতিক কার্যক্রম বন্ধ করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এমন প্রবণতা শুধু ব্যক্তিগত বা একটি আয়োজনের ক্ষতি করে না; বরং তা দীর্ঘমেয়াদে সমাজের সাংস্কৃতিক সহনশীলতা, বহুত্ববাদ এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে দুর্বল করে দেয়।
আসক সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আহ্বান জানিয়ে বলেছে, তারা যেন প্রতিটি সাংস্কৃতিক আয়োজনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর, দৃশ্যমান ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে।
আসক মনে করে, এ ধরনের ঘটনা সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা ও নাগরিকের মৌলিক অধিকারের ওপর সরাসরি হস্তক্ষেপের শামিল। বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২৭, ২৮ ও ৩৯ অনুযায়ী সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান এবং চিন্তা, বিবেক, বাক্ ও ভাব প্রকাশের স্বাধীনতা সংরক্ষিত; একইসঙ্গে সাংস্কৃতিক চর্চা ও শিল্প-সাহিত্য চর্চা এই অধিকারগুলোর অবিচ্ছেদ্য অংশ।
পাশাপাশি, বাংলাদেশ যে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার কাঠামোর অংশ, সেই মানবাধিকারের সর্বজনীন ঘোষণার অনুচ্ছেদ ১৯ ও ২৭ এবং আন্তর্জাতিক নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার সনদ (আইসিসিপিআর)-এর অনুচ্ছেদ ১৯ ও ২১ মতপ্রকাশ, শান্তিপূর্ণ সমাবেশ এবং সাংস্কৃতিক জীবনে অংশগ্রহণের অধিকার স্পষ্টভাবে নিশ্চিত করেছে।
ফলে কোনো গোষ্ঠী বা চাপের মুখে এ সকল সাংবিধানিক ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত অধিকার খর্ব করার সুযোগ নেই।
আসক বলছে, রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব হলো- সব নাগরিকের সাংস্কৃতিক ও মতপ্রকাশের অধিকার সুরক্ষিত রাখা এবং নিশ্চিত করা যে কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা মতাদর্শগত চাপ আইনের শাসনকে পাশ কাটিয়ে জনপরিসরের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে বাধা সৃষ্টি করতে না পারে। সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষায় রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্রিয় ও নিরপেক্ষ ভূমিকা অত্যন্ত জরুরি।




