ইলিয়াস আলীকে গুমের ঘটনায় গ্রেপ্তার দেখানো হলো উইং কমান্ডার সাইফুরকে

সংগৃহীত ছবি
বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীকে গুমের ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বিমানবাহিনীর উইং কমান্ডার সাইফুর রহমানকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ রবিবার এই আদেশ দেন। এর আগে সকালে একটি মাইক্রোবাসে করে তাকে ট্রাইব্যুনালে আনা হয়।
প্রসিকিউশনের আবেদনে ট্রাইব্যুনাল-১ গত ৯ আগস্ট সাইফুরের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিল। ওই পরোয়ানার ভিত্তিতেই তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয় ।
শতাধিক ‘গুম-খুনের’ ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের এক মামলায় গত ২১ জুন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সেনাবাহিনীর ওয়ারেন্ট অফিসার ইমরুল কায়েসের দেওয়া জবানবন্দিতে ইলিয়াস আলীকে গুমের ঘটনায় সাইফুর রহমানের নাম আসে।
এরপর গত ২৬ জুলাই রাতে বিশেষ সামরিক পুলিশ শাখা (প্রভোস্ট) সাইফুরকে তার বাসা থেকে আটক করে বাহিনীর বিশেষ সেলে হেফাজতে রাখে।
২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল গভীর রাতে রাজধানীর বনানী এলাকা থেকে বিএনপির তৎকালীন সাংগঠনিক সম্পাদক ইলিয়াস আলী ও তার গাড়িচালককে তুলে নেওয়া হয়। এরপর তাদের আর কোনো খোঁজ মেলেনি।
বিএনপি নেতাদের অভিযোগ, তৎকালীন সরকারের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নির্দেশেই ইলিয়াস আলীকে গুম করা হয়, যার সঙ্গে র্যাবের গোয়েন্দা শাখা সরাসরি জড়িত ছিল বলে ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশনের ভাষ্য।
ইলিয়াস আলী নিখোঁজ হওয়ার সময় বিমানবাহিনীর তৎকালীন স্কোয়াড্রন লিডার সাইফুর রহমান র্যাবের গোয়েন্দা শাখায় কর্মরত ছিলেন।
সর্বশেষ বিমান সদর দপ্তরের ডিরেক্টরেট অব এয়ার ট্রেনিংয়ের ডেপুটি ডিরেক্টর হিসেবে কর্মরত ছিলেন সাইফুর রহমান।
ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো আমিনুল ইসলাম গত ৯ আগস্ট বলেছিলেন, প্রাথমিক তদন্ত ও সাক্ষীর জবানবন্দিতে ইলিয়াস আলীকে অপহরণের ঘটনায় উইং কমান্ডার সাইফুরের সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে।
অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল শেখ মামুন খালেদসহ এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট অন্যদের ভূমিকা নিয়েও তদন্ত চালিয়ে যাওয়ার কথা বলেছিলেন আমিনুল।






