ডিবি
আন্দোলন দমনে নীল নকশা বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করেন মাঞ্জিল হায়দার

আগামীর সময় গ্রাফিক্স
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমনে কাজ করেন ডিজিএফআইয়ের সাবেক কর্মকর্তা মেজর (অব.) মাঞ্জিল হায়দার চৌধুরী। আন্দোলন চলাকালে ঢাকা শহরের বিভিন্ন স্থানে বসে আন্দোলন দমনের নীল নকশা বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করেন তিনি।
রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় ব্যবসায়ী আব্দুল ওয়াদুদ হত্যা মামলায় তার সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে করা আবেদনে এমন তথ্য উল্লেখ করেছে পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। পরে এই মামলায় তার চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছেন আদালত। আজ শুক্রবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব আলম শুনানি শেষে এই আদেশ দেন।
এদিন তাকে হাজির করা হয় আদালতে। এরপর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও পুলিশের গোয়েন্দা রমনা বিভাগের পরিদর্শক মো. আমজাদ হোসেন তালুকদার সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। ওই আবেদনে বলা হয়, আসামি মাঞ্জিল দীর্ঘদিন পলাতক থাকায় তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। আসামি শেখ হাসিনা, আসামি ওবায়দুল কাদের ও ফ্যাসিস্ট সরকারের সামরিক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল অবসরপ্রাপ্ত তারিক সিদ্দিকিসহ উর্ধ্বতন নেতৃবৃন্দের নির্দেশে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমনে কাজ করেন তিনি।
আসামি সামরিক কর্মকর্তা হিসেবে তার পেশাগত সুবিধা কাজে লাগিয়ে আন্দোলন চলাকালীন ফ্যাসিস্ট সরকার, আওয়ামী লীগ, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠেনের নেতা কর্মীদের নিয়ে ঢাকা শহরের বিভিন্ন স্থানে বসে পরিকল্পনা করেন আন্দোলন দমনের নীল নকশা বাস্তবায়নের। মেজর জেনারেল অবসরপ্রাপ্ত তারিক সিদ্দিকির নির্দেশনায় করেছেন অর্থ, অস্ত্র ও গোলাবারুদ সরবরাহ। সেই মোতাবেক আন্দোলন বিরোধী নেতা কর্মীদেরকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা ও আর্থিকভাবে সহায়তা প্রদান করতেন বলে জানা যায়।
আসামি মাঞ্জিলকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে আর্থিক সহায়তা ও নির্দেশনা এবং অর্থ, অস্ত্র, গোলাবারুদ সংগ্রহ ও ব্যবহারকারীসহ এই মামলার সঙ্গে জড়িত এজহারনামীয় ও অজ্ঞাতনামা পলাতক থাকা আসামিদের অবস্থান জেনে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে। যা মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায় বিচারের স্বার্থে তদন্তে হবে সহায়ক। মামলার মূল রহস্য সংশ্লিষ্ট তথ্য উদঘাটন, এই মামলার এজাহারনামীয় ও অজ্ঞাতনামা পলাতক আসামিদের পূর্নাঙ্গ নাম-ঠিকানা ও অবস্থান নির্ণয় পূর্বক করে অভিযান পরিচালনা করার জন্য তার সাত দিনের পুলিশ রিমান্ড আবশ্যক।
এছাড়া রিমান্ডের চারটি যৌক্তিকতা তুলে ধরে আবেদন আরও বলা হয়, আসামি একজন চাকুরীচ্যুত মেজর, যিনি ৫ আগস্টের পূর্ব পর্যন্ত সামরিক কর্মকর্ত হিসেবে কর্মরত থেকে তার পেশাগত সুবিধা কাজে লাগিয়ে ভূমিকা রেখেছেন আন্দোলন দমনে। জড়িত সন্দেহভাজন আসামি চাকরিচ্যুত মেজর মাঞ্জিল এ মামলার ঘটনায় জড়িত সন্দেহভাজন সাবেক সামরিক উপদেষ্টা তারেক সিদ্দিকীর অত্যন্ত আস্থাভাজন ও অপকর্মের সহযোগী ছিলেন মর্মে সুনির্দিষ্ট তথ্য রযেছে। তার নির্দেশে আলোচ্য আসামি সহিংস ভূমিকা রেখেছেন ছাত্র জনতার আন্দোলনে।
আসামির মাধ্যমে ফ্যাসিস্ট সরকারের সামরিক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল অবসরপ্রাপ্ত তারিক সিদ্দিকির পাঠানো আর্থিক সহায়তা ও প্রদত্ত নির্দেশনা এবং অর্থ, অস্ত্র, গোলাবারুদ সংগ্রহ ও ব্যবহারকারীদের নাম ঠিকানা জেনে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আন্দোলনে সহিংস ভূমিকা রাখার কথা স্বীকার করেছেন আসামি। এ ঘটনায় জড়িত অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ আসামিদের সনাক্ত ও ভূমিকা উদঘাটনের জন্য তাকে রিমান্ডে নিয়ে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। এসময় রিমান্ডের পক্ষে শুনানি করেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আজিজুল হক দিদার।
অন্যদিকে আসামিপক্ষে তার আইনজীবী রিমান্ড বাতিল ও জামিন চেয়ে শুনানি করেন। শুনানি শেষে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে আদেশ দেন রিমান্ডের। এর আগে বৃহস্পতিবার রাজধানীর মহাখালীর ডিওএইচএস এলাকা থেকে মাঞ্জিল হায়দার চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বিকালে নিউমার্কেট থানাধীন নীলক্ষেত এলাকায় আন্দোলন চলাকালে গুলিতে নিহত হন ব্যবসায়ী আব্দুল ওয়াদুদ।
ঘটনার পর নিহতের শ্যালক আব্দুর রব বাদী হয়ে ওই বছরের ২১ আগস্ট নিউমার্কেট থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় আসামি করা হয় শেখ হাসিনা ও ওবায়দুল কাদেরসহ মোট ১৩০ জনকে।














