টাকার বিনিময়ে রাড্ডা ক্লিনিকে হামলায় অংশ নেওয়া ৪ জন কারাগারে

গুড়িয়ে দেওয়া রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার। ছবি: সংগৃহীত
রাজধানীর মিরপুর-১-এর রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে মধ্যরাতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় গ্রেপ্তার চার আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এই চারজন টাকার বিনিময়ে হামলায় অংশ নেন।
আজ শনিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ সিদ্দিক আজাদ তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। আসামিরা হলেন মো. সোহেল (২২), মো. জুয়েল (২৩), মো. জিহাদ হাসান (২১) ও মো. রাবিব (২০)।
এদিন তাদের আদালতে হাজির করা হয়। এরপর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও শাহআলী থানার এসআই মো. আতোয়ার রহমান তাদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন।
ওই আবেদনে উল্লেখ করা হয়, জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন গ্রেপ্তার চারজন। টাকার বিনিময়ে হামলায় অংশ নেওয়ার বিষয়েও তাদের কাছ থেকে তথ্য পাওয়া গেছে। তারা শাহআলী থানার বাসিন্দা না হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে তাদের নাম-ঠিকানা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
তদন্ত কর্মকর্তা আদালতকে জানিয়েছেন, তারা জামিনে মুক্তি পেলে তদন্তে বিঘ্ন সৃষ্টি এবং পলাতক হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের কারাগারে আটক রাখা একান্ত প্রয়োজন।
মধ্যরাতে গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র, মামলা বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে
২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়। তবে আসামিপক্ষে কোনো আবেদন ছিল না।
মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, গত বৃহস্পতিবার রাত ১২টার শাহআলী থানাধীন এলাকায় অবস্থিত রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হ্যামার, লাঠি ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে একদল লোক প্রবেশ করেন। তারা প্রতিষ্ঠানের প্রাচীর টপকে ভেতরে ঢুকে দায়িত্বরত দুই নৈশপ্রহরী আন্দ্রিয় সরকার ও মো. আব্দুল হাইকে মারধর করেন, বেঁধে রাখেন। পরে হ্যামার দিয়ে প্রতিষ্ঠানের প্রধান ফটক ভেঙে একটি ভেকু নিয়ে ভেতরে প্রবেশ করেন। এরপর প্রতিষ্ঠানের পূর্ব পাশের একটি আধাপাকা ঘর, পরিবার পরিকল্পনা সেবা দেওয়ার আরেকটি আধাপাকা ঘর এবং ক্লিনিক ইনচার্জ, চিকিৎসক ও ডেপুটি ক্লিনিক ইনচার্জের আধাপাকা ঘর ভাঙচুর করা হয়। পাশাপাশি এসব ঘরে থাকা আসবাব ও যন্ত্রপাতি ভাঙচুর করা হয়। সবশেষে আল্ট্রাসনোগ্রাম, টিকাদান ও ল্যাবরেটরি কক্ষের পাকা ভবনের দরজা-জানালা ভাঙচুর করেন তারা।
ভাঙচুরের পর তারা প্রতিষ্ঠান থেকে বিভিন্ন ওষুধ ও সামগ্রী, দুটি আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিন, একটি জেনারেটর, দুটি কম্পিউটার, দুটি প্রিন্টার, তিনটি ফ্রিজ, তিনটি এসি ও তিনটি স্টিলের আলমারি নিয়ে যান। এ সময় নৈশপ্রহরীদের ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে সেখানে সমবায় সমিতির ব্যানার ও সাইন বোর্ড লাগিয়ে যান।
এ ঘটনায় রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক ডা. নাসরিন আখতার বাদী হয়ে শাহআলী থানায় মামলা করেন। মামলায় মো. হানিফ মিয়ার নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ২০০ থেকে ২৫০ জনকে আসামি করা হয়।




