অন্যায়ভাবে মামলায় জড়ানোর দাবি গ্রেপ্তার সাংবাদিক আজাহারের

সাংবাদিক আজাহার আলী সরকারকে আদালতে নেওয়া হচ্ছে। ছবি : সংগৃহীত
রমনা মডেল থানার এক মামলায় জামিনের পর শাহবাগ থানার আরেক মামলায় সাংবাদিক আজাহার আলী সরকারকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
আজ সোমবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা শুনানি শেষে তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। পরে আদালত থেকে তাকে বের করা হলে তিনি অভিযোগ করেন, অন্যায়ভাবে মামলায় জড়ানো হয়েছে। তার কোন অপরাধ নেই।
এদিন হুইলচেয়ারে তাকে আদালতে হাজির করা হয়। তার উপস্থিতিতে শুনানি শুরু হয়। এসময় আজাহার আলীর আইনজীবী মনসুর রিপন তাকে গ্রেপ্তার না দেখানোর বিষয়ে শুনানি করেন।
রাষ্ট্রপক্ষে প্রসিকিউটর মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমন গ্রেপ্তার দেখানোর বিষয়ে শুনানি করেন। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন।
এর আগে গত বছরের ১০ অক্টোবর সন্ধ্যায় ডিবি পুলিশের একটি দল বনশ্রীর বাসভবন থেকে আজহার আলীকে তুলে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করে পরিবার। পরদিন রমনা থানার একটি সন্ত্রাস বিরোধী আইনের মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
ওই মামলায় উচ্চ আদালত থেকে জামিন পান তিনি। পরবর্তীতে কারামুক্তির অপেক্ষায় থাকা অবস্থায় গত ১৮ জুন শাহবাগ থানার সন্ত্রাস বিরোধী আইনের মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন ডিবি পুলিশের পরিদর্শক আখতার মোর্শেদ।
মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস মুছে ফেলার গভীর ষড়যন্ত্র ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতি বন্ধের লক্ষ্যে মঞ্চ ৭১ নামে একটি সংগঠনের আত্মপ্রকাশ ঘটে। এ সংগঠনের উদ্দেশ্য জাতির অর্জনকে মুছে ফেলার সব ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে বাংলাদেশের জনগনকে সঙ্গে নিয়ে আত্মত্যাগের প্রস্তুতি নেয়া।
প্রস্তুতির অংশ হিসেবে গত বছরের ২৮ আগস্ট সকাল ১০ টায় একটি গোল টেবিল বৈঠকের আয়োজন করা হয়। সেগুনবাগিচাস্থ সকাল ১১ টায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) তে অনুষ্ঠান শুরু হয়। এর মধ্যেই এক দল ব্যক্তি হট্টগোল করে স্লোগান দিয়ে সভাস্থলে ঢুকে পড়েন। একপর্যায়ে তারা অনুষ্ঠানস্থলের দরজা বন্ধ করে দেন। অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া কয়েকজনকে লাঞ্ছিতও করেন।
হট্টগোলকারীরা গোলটেবিল আলোচনার ব্যানার ছিঁড়ে ফেলেন এবং আলোচনায় অংশ নেওয়াদের অবরুদ্ধ করে রাখেন। একপর্যায়ে অতিথিদের অনেককেই বের করে দেওয়া হলেও আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী এবং অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমানকে অবরুদ্ধ করে রাখেন তারা। পরে পুলিশ এসে ১৬ জনকে আটক করে পুলিশ। এ ঘটনায় শাহবাগ থানায় সন্ত্রাস বিরোধী আইনে মামলা করেন এসআই আমিরুল ইসলাম।




