আবারও পেছাল সালমান শাহ হত্যা মামলার প্রতিবেদন দাখিল

চিত্র নায়ক সালমান শাহ । ছবি: সংগৃহীত
পেছানো হলো চিত্রনায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলার আসামিদের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময়। নতুন তারিখ ধার্য করা হয়েছে আগামী ১৪ মে। আজ বৃহস্পতিবার নতুন এ দিন ধার্য করেছেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালত।
সালমান শাহ হত্যার অভিযোগে রমনা মডেল থানায় তার সাবেক স্ত্রী সামীরা হক ও খলনায়ক ডনসহ ১১ আসামির বিরুদ্ধে এ মামলা।
আজ মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ধার্য ছিল। তবে আদালতে কোন প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেননি তদন্তকারী কর্মকর্তা ও রমনা মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক আতিকুল ইসলাম খন্দকার। এজন্য প্রতিবেদন দাখিলের নতুন দিন ধার্য করেন আদালত।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন সামীরা হকের মা লতিফা হক লুছি, ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাই, লতিফা হক লুসি, খলনায়ক ডন, ডেবিট, জাভেদ, ফারুক, রুবী, আ. ছাত্তার, সাজু, রেজভি আহমেদ ওরফে ফরহাদ।
এর আগে গত ২০ অক্টোবর সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনায় করা অপমৃত্যু মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন আদালত। নির্দেশের পর ওইদিন মধ্যরাতে বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেন মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম। সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরীর পক্ষে বাদী হন তিনি।
চিত্রনায়ক সালমান শাহর মরদেহ উদ্ধার করা হয় ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ইস্কাটনের বাসা থেকে। ওই সময় প্রথমে অপমৃত্যুর মামলা করেন সালমান শাহর বাবা কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী। পরে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই অভিযোগটি হত্যা মামলায় রূপান্তরের আবেদন করা হয়।
এ বিষয়ে তদন্ত করতে সিআইডিকে নির্দেশ দেন আদালত। তদন্ত শেষে ১৯৯৭ সালের ৩ নভেম্বর আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয় সিআইডি। প্রতিবেদনে এ ঘটনাকে বলা হয় আত্মহত্যা। পরে ঢাকার সিএমএম আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন গৃহীত হয় ওই বছরের ২৫ নভেম্বর।
তবে প্রতিবেদনটি প্রত্যাখ্যান করে রিভিশন মামলা করেন কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী। মামলাটি ২০০৩ সালের ১৯ মে বিচার বিভাগীয় তদন্তে পাঠান আদালত। দীর্ঘ ১১ বছর পর ২০১৪ সালের ৩ আগস্ট আদালতে বিচার বিভাগীয় তদন্তের প্রতিবেদন দাখিল করেন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ইমদাদুল হক।
ওই প্রতিবেদনেও সালমান শাহর মৃত্যুকে বলা হয় অপমৃত্যু। কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরীর মৃত্যুর পর ছেলে হত্যা মামলার বাদী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হন মা নীলা চৌধুরী। তিনি ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে বিচার বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে নারাজির আবেদন করেন ২০১৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি। সর্বশেষ মামলাটি তদন্ত করে পিবিআই। আদালত ওই প্রতিবেদন গ্রহণ করে মামলাটি নিষ্পত্তি করেন ২০২১ সালের ৩১ অক্টোবর। আর এ আদেশের বিরুদ্ধে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে রিভিশন মামলা দায়ের হয় ২০২২ সালের ১২ জুন।















