রায় নিয়ে মন্তব্য : দুই আইনজীবীকে ট্রাইব্যুনালে তলব

ওবায়দুল কাদেরসহ সাতজনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় নিয়ে ফেসবুকে মন্তব্য নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দুই আইনজীবীকে তলব করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
আইনজীবীরা হলেন- হাসানুজ্জামান তুষার ও মোহাম্মদ হাসান চৌধুরী। তাদের আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর সশরীরে হাজির হয়ে তাদের ফেসবুকে লেখা বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিতে হবে।
তাদের বক্তব্য আদালত অবমাননার শামিল দাবি করে তা আজ বুধবার আদালতের গোচরে এনেছিল ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন বিভাগ। সেই আবেদনে তলবের আদেশ দেন বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।
আদেশের পর প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামীম সাংবাদিকদের বলেন, ‘ওবায়দুল কাদেরসহ সাতজনের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনাল যে রায় দিয়েছেন, তা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের ওই দুজন আইনজীবী ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন। তারা ট্রাইব্যুনালকে অবমাননা করে বক্তব্য দিয়েছেন।’
জুলাই আন্দোলন দমনে হত্যা-নিপীড়নের নির্দেশ দেওয়ার মাধ্যমে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের দায়ে গতকালই ট্রাইব্যুনাল-২ আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাতজনকে মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছিলেন।
প্রসিকিউটর গাজী তামীমের ভাষ্য, এর পরপরই হাসানুজ্জামান তুষার রায়ের সংবাদ প্রতিবেদন ফেসবুকে শেয়ার করে লেখেন, ‘অবৈধ ক্যাঙ্গারু কোর্টের অবৈধ, মিথ্যা-বানোয়াট, ভিত্তিহীন রায়ের তীব্র নিন্দা জানাই, প্রতিবাদ জানাই এবং ঘৃণ্যভাবে এই রায় প্রত্যাখ্যান করি। রাজপথেই হবে সবকিছুর ফয়সালা। জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু।’
ওই পোস্টে সেদিন বিকালে আইনজীবী হাসান চৌধুরী মন্তব্য করেন, ‘ক্যাঙ্গারু কোর্টের অবৈধ রায়ের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। এই ফরমায়েশি রায় প্রত্যাখ্যান করছি। জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু।’
জুলাই অভ্যুত্থানের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার বিচার চলছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে, যা গঠিত হয়েছিল একাত্তরের যুদ্ধাপরাধের বিচারে।
ক্ষমতাচ্যুত হয়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সমর্থকদের অনেকেই ট্রাইব্যুনালের রায় নিয়ে নানা মন্তব্য করছেন।
অন্যদের বাদ দিয়ে কেবল এ দুজনের বিরুদ্ধে আবেদন করার কারণ ব্যাখ্যা করে প্রসিকিউটর তামীম বলেন, ‘তারা আইনজীবী, তারা আইন জানেন। আদালতের বিরুদ্ধে কী বলা যায়, বা যায় না, তা উনারা জানেন। একজন আইনজীবী যখন আদালত সম্পর্কে এ ধরনের মন্তব্য করেন এবং তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া না হয়, তখন সাধারণ মানুষের কাছে মনে হতে পারে যে এটি বৈধ। এই বিভ্রান্তি এড়াতেই আদালতের কাছে পিটিশনটি আনা হয়েছে।’
১৯৭৩ সালের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের ১১(৪) ধারার কথা উল্লেখ করে গাজী তামীম বলেন, যদি কোনো ব্যক্তি এই ট্রাইব্যুনালের কোনো কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করে, কোনো পক্ষকে হুমকি দেয়, তা আদালত অবমাননার শামিল।
ট্রাইব্যুনালের কোনো রায় কেউ অমান্য করলে তার বিরুদ্ধে এক বছরের কারাদণ্ড এবং জরিমানার আদেশ আদালত দিতে পারবেন বলে জানান এই প্রসিকিউটর।




