একজনের পাসপোর্টে অন্যজনকে ইতালি, ৭ আসামির রিমান্ড

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
একজনের পাসপোর্ট ব্যবহার করে অন্যজনকে ইতালি পাঠানোর অভিযোগে করা মামলায় গ্রেপ্তার সাত আসামির রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। আজ মঙ্গলবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রৌনক জাহান তাকি শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
আসামিরা হলেন—মো. বেলায়েত হোসেন, নাজমুল হাসান, মেহেদী হাসান, কাওসার হোসেন, মো. সোলাইমান সুমন, মো. তৌহিদুর রহমান ও ফজলে রাব্বী। এর মধ্যে বেলায়েত ও নাজমুলের দুই দিন এবং অপর পাঁচ আসামির এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়েছে।
এদিন সাত আসামিকে আদালতে হাজির করে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও গুলশান থানার উপপরিদর্শক (এসআই) তনুনন্দন রুরাম প্রত্যেকের সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। অন্যদিকে আসামিপক্ষে আইনজীবী ওমর ফারুকসহ অন্যরা রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে রিমান্ডের আদেশ দেন।
এর আগে রবিবার রাজধানীর গুলশান-১ এলাকায় অভিযান চালিয়ে চক্রটির সাত সদস্যকে গ্রেপ্তার করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী তাসলিমা আক্তারের স্বামী সুমন মিয়া প্রায় ১১ বছর ধরে ইতালিতে বসবাস করছেন। স্বামী ও চার সন্তানের কাছে যেতে তিনি দীর্ঘদিন ধরে ইতালির ভিসার চেষ্টা করছিলেন। ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর ঢাকায় ইতালি দূতাবাসে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিলেও ১৪ মাসেও ভিসা পাননি। এ সময় তার পাসপোর্টের মেয়াদও শেষ হয়ে যায়।
পরে দূতাবাস থেকে মেয়াদোত্তীর্ণ পাসপোর্ট সংগ্রহের সময় নাজমুল হাসান নামে এক ব্যক্তি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পাসপোর্ট নবায়নের আশ্বাস দেন। পরে ভিসা পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে গত ২ এপ্রিল গুলশানের একটি ট্রাভেল এজেন্সিতে বেলায়েত হোসেনের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। সেখানে সাড়ে চার লাখ টাকায় ভিসা করে দেওয়ার মৌখিক চুক্তি হয়।
এজাহারে বলা হয়, গত ১৬ জুলাই ইতালি দূতাবাস থেকে পাসপোর্ট সংগ্রহের পর অভিযুক্তরা তার কাছে চুক্তি অনুযায়ী টাকা দাবি করেন। টাকা সঙ্গে না থাকায় তারা পাসপোর্টটি রেখে দেন। পরে বাধ্য হয়ে তিনি তাদের ব্যাংক হিসাবে ৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা জমা দিলে পাসপোর্ট ফেরত পান।
পরবর্তীতে ১৯ জুলাই ইতালি যাওয়ার উদ্দেশ্যে বিমানবন্দরে গেলে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ তাকে আটকে জানায়, তার পাসপোর্ট ব্যবহার করে গত ২৪ এপ্রিলই অন্য একজন ইতালি চলে গেছেন। এ ঘটনায় ২১ জুলাই গুলশান থানায় মামলা দায়ের করেন তাসলিমা আক্তার।




