মানবতাবিরোধী অপরাধ
কার্নিশে ঝুলে থাকা তরুণকে গুলি, মামলার রায় রবিবার

ফাইল ছবি
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর রামপুরায় একটি ভবনের কার্নিশে ঝুলে থাকা এক তরুণকে গুলি এবং একই এলাকায় আরও দুজনকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার রায় ঘোষণা হবে আগামীকাল রবিবার।
আজ শনিবার বিচারপতি গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ রায়ের এই তারিখ নির্ধারণ করেছেন। তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামীম।
এ মামলার আসামিরা হলেন— ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, পুলিশের খিলগাঁও অঞ্চলের সাবেক এডিসি রাশেদুল ইসলাম, রামপুরা থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মশিউর রহমান, সাবেক এসআই তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়া ও সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) চঞ্চল চন্দ্র সরকার। আসামিদের মধ্যে চঞ্চল চন্দ্র কারাগারে আছেন, অন্যরা পলাতক।
এ মামলায় গত বছরের ৭ আগস্ট চার্জ দাখিল করে প্রসিকিউশন। এরপর ১৮ সেপ্টেম্বর পাঁচজনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-১।
চূড়ান্ত যুক্তিতর্ক শেষে গত ৪ মার্চ এ মামলার রায় ঘোষণার জন্য দিন ধার্য করেন ট্রাইব্যুনাল। কিন্তু নতুন করে ডিজিটাল অ্যাভিডেন্স জমা দেওয়ার আবেদন করে প্রসিকিউশন। এরপর প্রথম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেওয়া আমির হোসেনকে আবার সাক্ষ্য দিতে হয়। গত ১৫ জুন প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষের দ্বিতীয় দফায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপন সম্পন্ন হয়।
উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে রায় ঘোষণার জন্য ২৮ জুন সম্ভাব্য দিন নির্ধারণ করেন ট্রাইব্যুনাল। এ মামলায় তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট সাক্ষ্য দিয়েছেন ১৩ জন। মামলার পাঁচ আসামিরই সর্বোচ্চ শাস্তি চেয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই জুমার নামাজ শেষে বাসায় ফিরছিলেন আমির হোসেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বাসার কাছে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার মধ্যে পড়ে যান তিনি। তখন পুলিশ গুলি শুরু করলে দৌড়ে একটি নির্মাণাধীন ভবনের চারতলায় গিয়ে আশ্রয় নেন আমির। পরে বিক্ষোভকারীদের ধাওয়া করতে গিয়ে চারতলায় উঠে পুলিশ।
সেখানে আমিরকে পেয়ে তার দিকে আগ্নেয়াস্ত্র তাক করে বারবার নিচে লাফ দিতে বলেন পুলিশ সদস্যরা। একজন পুলিশ সদস্য ভয় দেখাতে কয়েকটি গুলিও ছোড়েন। একপর্যায়ে ভয়ে আমির হোসেন লাফ দিয়ে নির্মাণাধীন ভবনটির রড ধরে ঝুলে থাকেন। তখন তৃতীয় তলা থেকে একজন পুলিশ সদস্য তাকে লক্ষ্য করে ছয়টি গুলি করেন। গুলিগুলো তার দুই পায়ে লাগে।
পরে পুলিশ চলে গেলে আমির ঝাঁপ দিয়ে কোনোভাবে তৃতীয় তলায় পড়েন। তখন তার দুই পা দিয়ে রক্ত ঝরছিল। প্রায় তিন ঘণ্টা পর একজন শিক্ষার্থী ও দুজন চিকিৎসক তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেন। সেখান থেকে পরে তাকে নেওয়া হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।
নির্মম এ ঘটনায় ভাগ্যক্রমে বেঁচে যান তিনি। একই দিনে রামপুরায় ঘটনাস্থলের সামনে আরও দুজনকে গুলি করে হত্যার অভিযোগও আনা হয়েছে এই মামলায়।





