বকেয়া দেনমোহর আদায়ে নীতিমালা কেন নয়, হাইকোর্টের রুল

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
বিয়ের সময় নির্ধারিত দেনমোহর আদায় ও পরিশোধে একটি নীতিমালা প্রণয়নের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।
আইন সচিব, নিবন্ধন অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
আজ সোমবার বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এক রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
এর আগে, গত ৫ জুলাই দেনমোহর আদায় ও পরিশোধের পদ্ধতি এবং এ-সংক্রান্ত নীতিমালা তৈরির নির্দেশনা চেয়ে রিট করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার ফাহমিদা আখতার। সোমবার তিনি নিজেই রিটের পক্ষে শুনানি করেন।
শুনানি শেষে ব্যারিস্টার ফাহমিদা আখতার সাংবাদিকদের বলেন, মুসলিম আইনে বিয়ে একটি দেওয়ানি চুক্তি। দেনমোহর সেই চুক্তির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিয়ের সময় বা পরে দেনমোহর পরিশোধ করা স্বামীর আইনগত দায়িত্ব। দেনমোহর পরিশোধ না করেই স্বামীর মৃত্যু হলে স্ত্রী তাঁর সম্পত্তি থেকেও এ অর্থ আদায় করতে পারেন।
তিনি বললেন, ‘বর্তমানে কাবিননামায় অনেক ক্ষেত্রে দেনমোহরের একটি অংশ তাৎক্ষণিক এবং বাকি অংশ বিলম্বিত (ডিফার্ড) হিসেবে নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু দীর্ঘ সময় পর সেই অর্থ পরিশোধ করা হলেও মূল্যস্ফীতির কারণে টাকার প্রকৃত মূল্য অনেক কমে যায়। ফলে দেনমোহরের মূল উদ্দেশ্য—স্ত্রীর আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা—ব্যাহত হয়।’
তার ভাষ্য, ২০ বছর আগে নির্ধারিত এক লাখ টাকা ২০ বছর পর একই অঙ্কে পরিশোধ করলে তার প্রকৃত আর্থিক মূল্য আর আগের মতো থাকে না। তাই সময়ের সঙ্গে টাকার মূল্য সমন্বয় করে দেনমোহর পরিশোধের জন্য একটি স্পষ্ট নীতিমালা প্রয়োজন।
রিটে মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১-এর ১০ ধারার অধীনে দেনমোহর আদায় ও মূল্য নির্ধারণে একটি সমন্বিত নির্দেশিকা প্রণয়ন এবং দীর্ঘ সময় পর পরিশোধযোগ্য দেনমোহরের মূল্য নির্ধারণের পদ্ধতি ও নীতিমালা তৈরির নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।




