তাহসিফ হত্যা
রিমান্ড শুনানিতে বিচারক বললেন— ‘আদালতে সাংবাদিক কেন’

সংগৃহীত ছবি
বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির মৃত্যুর ঘটনায় উত্তরখান থানায় করা মামলায় শাহরিয়ার রেজা দীপের তিন রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। আজ মঙ্গলবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাসান শাহাদাত শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। শুনানির শুরুতে বিচারক প্রশ্ন তুললেন, ‘আদালতের মধ্যে সাংবাদিকরা কেন?’
এদিন চার দিনের রিমান্ড শেষে আসামি দীপকে আদালতে হাজির করা হয়। এরপর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গাজীপুরের টঙ্গী নৌপুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক ফিরোজ উদ্দিন আট কারণ উল্লেখ করে ৭ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। পরে পুলিশ প্রহরায় আসামিকে কাঠগড়ায় তোলা হয়।
শুনানির শুরুতে এজলাসে সাংবাদিকদের দেখে ক্ষুব্ধ হন বিচারক। এ সময় সংবাদ সংগ্রহ করতে যাওয়া সাংবাদিকদের উদ্দেশ করে তিনি বলেছেন, ‘আদালতের মধ্যে সাংবাদিকরা কেন? আপনারা কি ভেতরে ঢুকতে পারেন। শুনানির পর পিপি, এপিপিরা আপনাদের বিস্তারিত জানাবেন। আপনারা বেরিয়ে যান। আপনারা থাকতে পারবেন না।’
এ সময় পুলিশকে উদ্দেশ করে বিচারক বলেন, ‘সব ক্লিয়ার করেন, কেউ থাকবে না ভেতরে।’ পরে সাংবাদিকরা এজলাসের পেছনে একপাশে গিয়ে দাঁড়ান। এরপর শুনানি শুরু হয়।
তবে বিষয়টি ঠিক হয়নি উল্লেখ করে বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক মহাসচিব ও সাবেক জেলা জজ শাহজাহান সাজু বলেছেন, ‘এটা যেহেতু ক্যামেরা ট্রায়াল নয়, ওপেন ট্রায়াল— সেহেতু শুধু জার্নালিস্টরা নন, পাবলিকরাও থাকতে পারবেন। আর সাংবাদিকরা জাতির দর্পণ ও ন্যায়বিচারে গুরুত্বপূর্ণ সহযোগিতা করেন। ওপেন ট্রায়ালে তারা থাকলে শুনানিতে কি হলো তা জাতিকে জানাতে পারেন। সুতরাং সাংবাদিকদের এজলাস থেকে বের হয়ে যাওয়ার কথা বলা ঠিক হয়নি।’
এর আগে গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় বাসা থেকে বেরিয়ে নিখোঁজ হন তাহসিফ সাউরি। পরদিন ২৮ অক্টোবর তুরাগ নদ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় শুক্রবার নিহতের বাবা এ কে এম এনায়েতুল করিম বাদী হয়ে মামলা করেন। পরে সন্দিগ্ধ হিসেবে দীপকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
গত শনিবার প্রথম দফায় তার চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়। এই মামলায় রবিবার আরেক আসামি জেরিকা তাসনিম দিশারও চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি রিমান্ডে রয়েছেন।




