যৌতুক না পেয়ে স্ত্রীকে হত্যা: স্বামীর মৃত্যুদণ্ড

রায় ঘোষণার পর মো. মিজানুর রহমান প্রকাশ ওরফে মিজান হোসেনকে নিয়ে যাচ্ছেন পুলিশ সদস্যরা। ছবি: আগামীর সময়
ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে যৌতুক না পেয়ে স্ত্রীকে হত্যার দায়ে স্বামী মো. মিজানুর রহমান প্রকাশ ওরফে মিজান হোসেনের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। আজ রবিবার ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪ এর বিচারক মুন্সী মো. মশিয়ার রহমান এ রায় ঘোষণা করেন। পাশাপাশি তাকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মো. এরশাদ আলম জর্জ আগামীর সময়কে এ তথ্য জানান।
এদিন কারাগারে থাকা আসামি মিজানকে আদালতে হাজির করা হয়। তার উপস্থিতিতে বিচারক রায় ঘোষণা করেন। পরে সাজা পরোয়ানা দিয়ে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, ২০০৮ সালে মিজানের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন মোসা. রেহানা। তাদের দু'টি কন্যা সন্তান রয়েছে। বিয়ের পর থেকে বিভিন্ন সময় রেহানার বাবা থেকে যৌতুক হিসেবে অর্থ, স্বর্ণালংকার নেন মিজান। এরপর আবারও ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন মিজান। ২০১৯ সালের ২৫ জুলাই তাকে দুই হাজার টাকা দেওয়া হয়। টাকা কম দেওয়ায় রেহানাকে কেরানীগঞ্জের চর মীরেরবাগ এলাকায় মারধর করে মিজান। পরে তাকে গলাটিপে হত্যা করেন। এ ঘটনায় পরদিন মিজানের ভাই মো. আব্বাস দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় মামলা করেন। মামলার পর মিজান আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
এদিকে মামলার তদন্ত শেষে ২০১৯ সালের ২৯ ডিসেম্বর দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার এসআই আক্কাস মিয়া আসামি মিজানকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। এরপর আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেয় ট্রাইব্যুনাল। মামলার বিচার চলাকালে ট্রাইব্যুনাল ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করেন।



