ইউরোপিয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান রিমান্ডে

ছবি: আগামীর সময়
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের (ইইউবি) ট্রাস্টি বোর্ডের সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মকবুল আহমেদ খানের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। তার ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) নিছার উদ্দীন আকাশেরও তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়েছে।
আজ বুধবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইসমাইল শুনানি শেষে রাজধানীর দারুস সালাম থানার সন্ত্রাস বিরোধী আইনের মামলায় এ আদেশ দেন।
এদিন তাদের আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা দারুস সালাম থানার ইন্সপেক্টর নাজমুল হাসান খাঁন।
আসামিদের পক্ষে অ্যাডভোকেট জিয়াউল হাসান রিমান্ড বাতিল করে জামিন প্রার্থনা করেন। শুনানি নিয়ে আদালত তাদের তিন দিনের রিমান্ডের আদেশ দেয়।
এর আগে, মঙ্গলবার দিবাগত ভোর ৪টার দিকে মকবুল আহমেদকে ধানমন্ডির বাসা থেকে এবং রাত ৩টার দিকে নিছার উদ্দীনকে গাবতলী এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার দুপুর দেড়টার দিকে আনুমানিক ১টা ৩০ মিনিটের দিকে আসামিরা গাবতলীস্থ ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ-এর ১ম তলা ও ২য় তলায় প্রবেশ করেন।
তারা রাষ্ট্রপতির জারি করা প্রজ্ঞাপনকে অবজ্ঞা ও বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে সরকার কর্তৃক নিয়োগকৃত বোর্ড অব অ্যাডমিনিস্ট্রেটরদের কক্ষে সরকারি কাজে বাধা দেয়। সিলগালা করা দুটি কক্ষের তালা ভেঙে ভেতরে ঢুকে প্রায় ৫০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি করে। পাশাপাশি আলমারিতে রক্ষিত নগদ ১৫ লাখ টাকা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ ফাইলপত্র, হিসাব শাখার কাগজপত্র ও রেজিস্টার, ট্রেজারার ও ভিসির কক্ষের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ফাইল চুরি করে নিয়ে যায়। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নানা বিভ্রান্তিকর তথ্য ও রাষ্ট্রবিরোধী বক্তব্য ছড়িয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করে।
এ ঘটনায় রাতে রাফিউল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি বাদী হয়ে দারুস সালাম থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় ১৬ জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাতনামা আরও ২০/২৫ জনকে আসামি করা হয়।
গত ৫ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ‘বোর্ড অব অ্যাডমিনিস্ট্রেটরস’ গঠন করে প্রজ্ঞাপন জারি করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
ওই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, অভ্যন্তরীণ বিরোধের ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষাকার্যক্রম ব্যাহত ও শিক্ষার্থীদের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা পরিলক্ষিত হয়েছে। এ অবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষাকার্যক্রম অব্যাহত রাখার স্বার্থে ‘বোর্ড অব অ্যাডমিনিস্ট্রেটরস’ গঠন করা হলো।
রাষ্ট্রপতি ও আচার্যের অনুমতিক্রমে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০১০ অনুযায়ী এই পদক্ষেপ নেওয়া হলো। এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।




