জবির জোবায়েদ হত্যা, তিন আসামির বিচার শুরু

আদালতে বার্জিস শাবনাম বর্ষা। ছবি : আগামীর সময়
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী ও ছাত্রদল নেতা জোবায়েদ হোসাইন হত্যা মামলায় ছাত্রী বার্জিস শাবনাম বর্ষাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু হয়েছে।
আজ রবিবার ঢাকার ১৫তম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মাজহারুল ইসলাম শুনানি শেষে অব্যাহতির আবেদন নাকচ এ আদেশ দেন।
অপর আসামিরা হলেন- বর্ষার প্রেমিক মাহির রহমান এবং মাহিরের বন্ধু ফারদীন আহম্মেদ আয়লান।
এদিন কারাগার থেকে তাদের আদালতে হাজির করা হয়। তাদের উপস্থিতিতে অভিযোগ গঠন শুনানি শুরু হয়। এসময় আসামি বর্ষার আইনজীবী আল মামুন রাসেল বলেছেন, বর্ষার নামে অভিযোগ আনা হয়েছে ‘তিনি হত্যার প্ররোচনা দিয়েছেন’। ৪৪ জন সাক্ষীর কেউ এ বিষয়ে কিছু বলেননি।
তিনি চাকু কেনার টাকা দিয়েছেন বলে অভিযোগ আনা হয়েছে, তার যথাযথ প্রমাণ দেখাতে পারেননি তদন্তকারী কর্মকর্তা। ন্যায় বিচারের স্বার্থে তার মামলা থেকে অব্যাহতি প্রার্থনা করছি। পরে অপর দুই আসামি আয়লান ও মাহির রহমানের পক্ষে তাদের আইনজীবীরা অব্যাহতি চেয়ে শুনানি করেন।
তবে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জহির হোসেন খান তাদের অব্যাহতির আবেদনে আপত্তি জানান। তিনি অভিযোগ গঠনের পক্ষে শুনানি করে বলেছেন, ভিকটিমকে হত্যা করার জন্য তিন আসামি পরিকল্পনা মাফিক কাজ করেছেন। তাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। আমরা ন্যায় বিচারের স্বার্থে অভিযোগ গঠনের প্রার্থনা করছি। শুনানি শেষে আদালত তাদের অব্যাহতির আবেদন খারিজ করে অভিযোগ গঠন করেন। এসময় আসামিরা নিজেদের নির্দোষ দাবি করে ন্যায় বিচার দাবি করেন। একইসঙ্গে সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য আগামী ৯ ডিসেম্বর দিন ধার্য করেন।
মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, গত বছরের ১৯ অক্টোবর পুরান ঢাকার আরমানিটোলার ১৫, নুরবক্স লেনের রৌশান ভিলা বাসায় ছাত্রী বর্ষাকে পড়াতে গিয়ে খুন হন তিনি। সেদিন বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ছাত্রী বর্ষার বাসার নিচতলায় জোবায়েদকে ছুরিকাঘাত করা হয়। রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে তিনতলার সিঁড়িতে উপুড় হয়ে পড়ে থাকতে দেখা যায়। এ ঘটনায় একদিন পর নিহত জোবায়েদের বড় ভাই এনায়েত হোসেন সৈকত বাদী হয়ে বংশাল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
তদন্ত শেষে গত ৩০ জুন আদালতে অভিযোগপত্র দেন তদন্ত কর্মকর্তা মো. আশরাফ হোসেন। ওই অভিযোগ পত্রে বলা হয়েছে, এটি তাৎক্ষণিক কোনো হামলা ছিল না; বরং এক মাস ধরে পরিকল্পনা, নজরদারি, ঘটনাস্থল পরিদর্শন এবং সুযোগের অপেক্ষার পর হত্যাকাণ্ডটি ঘটানো হয়।
এছাড়া তদন্তে বর্ষার সঙ্গে জোবায়েদ ও মাহিরের প্রেমের সম্পর্কের বিষয়ও উঠে এসেছে। জোবায়েদের সঙ্গে বর্ষার অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার ভয়ে তাঁকে হত্যা করা হয়।



