ছবি ছাড়া জাতীয় পরিচয়পত্র নয় : হাইকোর্ট

ছবি ছাড়া বায়োমেট্রিক ফিচার ব্যবহার করে জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরির পদক্ষেপ নিতে জারি করা রুল খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। আজ বুধবার বিচারপতি মো. ইকবাল কবির ও বিচারপতি এস এম সাইফুল ইসলামের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন।
এর ফলে ছবি দিয়েই জাতীয় পরিচয়পত্র করতে হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা।
আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী শেখ ওমর শরীফ ও আইনজীবী ইলিয়াছ আলী মণ্ডল। নির্বাচন কমিশনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী কামাল হোসেন মিয়াজী।
পরে রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেন আইনজীবী কামাল হোসেন মিয়াজী। তিনি বলেছেন, রুল খারিজ করে দিয়েছেন আদালত। ফলে ছবি ছাড়া জাতীয় পরিচয়পত্র হবে না।
এই আইনজীবী ব্রিফিংয়ে বললেন, নির্বাচন কমিশনের ওপর বাধ্যবাধকতা আছে জাতীয় পরিচয়পত্র ইস্যু করার এবং সেই জাতীয় পরিচয়পত্র হবে ছবিসহ। যেহেতু নির্বাচন কমিশন আইনত ছবি ছাড়া জাতীয় পরিচয়পত্র ইস্যু করতে পারে না, সেক্ষেত্রে এই রিট পিটিশনারের দাবি অনুযায়ী রিট পিটিশনটি মঞ্জুর হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
‘ইসলামি শরিয়ত মতে পর্দা’ করেন দাবি করে ছবি ছাড়া বায়োমেট্রিক ফিচার ব্যবহার করে জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরির পদক্ষেপ নিতে ২০২২ সালে রিট আবেদনটি করেন রাজধানীর শাহজাহানপুরের শান্তিবাগের বাসিন্দা সুমাইয়া আহমাদ মুনা। রিট আবেদনে তার স্বামী মুহম্মদ আরিফুর রহমানকে অথরিটি দেওয়া হয়।
এর আগে ওই বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন কমিশন বরাবর একটি আবেদন করেন সুমাইয়া আহমাদ মুনা। সেখানে বলা হয়, তিনি প্রাপ্তবয়স্ক ও পর্দানশীন মুসলিম মহিলা এবং সম্মানিত দ্বীন ইসলামের শরিয়তের হুকুম আহকাম নিয়মিতভাবে পালন করে থাকেন। সে কারণে যেকোনো প্রকার ছবি তোলা থেকে বিরত থাকেন। যার ফলে তার পরিচয়পত্র নেই।
কিন্তু পরিচয়পত্র না থাকায় নানাবিধ সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তাই ছবি ছাড়া বিকল্প ব্যবস্থায় জাতীয় পরিচয়পত্র পেতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ চান। কিন্তু আবেদন নিষ্পত্তি না হওয়ায় হাইকোর্টে রিট করেন তিনি।
এ রিটের শুনানি নিয়ে ২০২২ সালের ৬ মার্চ আদালত রুল জারি করেছেন। রুলে ছবি ছাড়া বিকল্প পরিচয় তথা বায়োমেট্রিক ফিচার ব্যবহার করে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) তৈরিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়েছিলেন হাইকোর্ট। বিস্তারিত শুনানির পর আজ বুধবার সেই রুল খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট।
রুল জারির সময় রাষ্ট্রপক্ষ শুনানিতে জানিয়েছিল, এ আবেদনটিই সংবিধান পরিপন্থী। হজ করতে গেলেও ছবি তুলতে হয়। অ্যাকাউন্ট করতে গেলেও ছবি লাগবে। ছবি না দিলে ওনার টাকা যদি অন্য কেউ নিয়ে যায়, এটার কী হবে। আর বায়োমেট্রিক করতে হলে চোখের আইরিশ লাগবে। তখন পর্দা উঠাতে হবে।





