আওয়ামী লীগের মানবতাবিরোধী অপরাধের তদন্ত চলমান

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
দল হিসাবে আওয়ামী লীগের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের তদন্ত চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।
তদন্ত রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হবে বলেও তিনি জানান।
রবিবার নিজ কর্যালয়ে এক ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন তিনি।
তিনি জানিয়েছেন, সন্ত্রাসবিরোধী আইন ২০০৯-এর সেকশন ১৮ প্রয়োগ করে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড ইতিমধ্যে কিন্তু নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি সংগঠন হিসেবেও দলটিকে নিষিদ্ধ করার আইনগত বিধান আছে।
প্রক্রিয়াটা হলো- যদি বিচারে দোষী সাব্যস্ত হয় সংগঠন হিসেবে, তাহলে ওই রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ সরকার গ্যাজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট সংগঠনটিকে নিষিদ্ধ করতে পারবে।
তিনি বলেছেন, আওয়ামী লীগের করা মানবতাবিরোধী অপরাধ তদন্তাধীন আছে, এইটুকুই আপনাদেরকে জানাচ্ছি। এর বাইরে কোনো তথ্য আমার কাছে আর নাই। তদন্ত সাপেক্ষে কোনো রিপোর্ট আমার কাছে সাবমিট করার পরে আমি বিস্তারিত বলতে পারব।
রাতারাতি তদন্ত শেষ করা সম্ভব নয় দাবি করে তিনি বলেছেন, স্বাধীন হওয়ার পর থেকে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন রকমের কর্মকাণ্ড আছে। তখন একদলীয় শাসন ব্যবস্থা কায়েম, অনেক রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধকরণ, রক্ষীবাহিনীর মতো বাহিনী গঠন করা, সেনাবাহিনীর পাশাপাশি আরেকটা রক্ষীবাহিনী এবং সেখানে হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করা, রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করা, পরবর্তীকালে একটি স্বৈরাচারের দোসর হিসেবে কাজ করা, ২০০৯ থেকে নিজেরা ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্র কায়েম করে দীর্ঘদিন পর্যন্ত মানুষের উপরে নানানভাবে অত্যাচার-নির্যাতন করার মতো বিষয়গুলো রয়েছে।
বাংলাদেশ থেকে যদি কোনো মানি লন্ডারিং হয়ে থাকে, যদি সোভেরেনটি প্রশ্নের সম্মুখীন হয়, যদি এমন কোনো দেশের সাথে এমন কোনো কর্মকাণ্ড করেন যেখানে আপনার দেশের সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ন হয়, একটা সংগঠন নিষিদ্ধ করার জন্য এই সবকিছু আসবে। ফলে এটা খুব রাতারাতি বা ওভারনাইট একটা ইনভেস্টিগেশন সম্ভব হয়ে যাবে না।
তার মতে, যদি আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের প্রমাণ মেলে, তাহলে ট্রাইব্যুনাল আইনে ওই সংগঠনটিকে নিষিদ্ধ করে দেয়ার বিধান আছে। এবং সংশ্লিষ্ট আসামির যত সম্পত্তি আছে বাংলাদেশে অথবা দেশের বাইরে, সেগুলো কিন্তু রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত হওয়ার বিধান আছে।
আমিনুল ইসলাম বলেছেন, সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে আমাদের এই ট্রাইব্যুনাল পরিচালিত হয়। সেখানে আমরা কারো নির্দেশিত হয়ে আমরা কোনো রকমের কার্যক্রম আমরা করি না। সো, আমাদের এখানে যে ইনভেস্টিগেশনটা চলমান আছে, আমাদের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ নাই। তদন্ত সংস্থা স্বাধীনভাবে তদন্ত করছে।




