জুলাই জাদুঘরকে সর্বজনীন করার দাবি জাতীয় ছাত্রশক্তির

জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরকে কোনো নির্দিষ্ট দল বা গোষ্ঠীর রাজনৈতিক বয়ানের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে সর্বজনীন স্মৃতিশালা হিসেবে গড়ে তোলার দাবি জানিয়েছে জাতীয় ছাত্রশক্তি।
আজ রবিবার সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক আবু বাকের মজুমদার এক বিবৃতিতে বলেছেন, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান ছিল ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার এক সর্বজনীন মহাজাগরণ। এই আন্দোলনের স্মৃতি সংরক্ষণের জন্য প্রতিষ্ঠিত জাদুঘরটি বিগত ১৫ বছরের স্বৈরাচারী শাসনের নির্যাতন, নিপীড়ন ও দমন-পীড়নের দলিলের পাশাপাশি জুলাই গণঅভ্যুত্থানে দেশের সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণ ও আত্মত্যাগের সর্বজনীন স্মৃতি সংরক্ষণ করবে, এমনটাই প্রত্যাশিত ছিল।
তবে বর্তমানে জাদুঘরটি একটি নির্দিষ্ট দলীয় ইতিহাসের দিকে ধাবিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ করেন জুলাই গণঅভ্যুত্থানের এই নেতা।
আবু বাকের মজুমদার অভিযোগ করেন, জাদুঘরে আগে স্থান পাওয়া ভারত সীমান্তে হত্যাকাণ্ড এবং মোদিবিরোধী আন্দোলনের বিভিন্ন স্মৃতিচিহ্ন বর্তমান বিএনপি সরকার ভারতকে খুশি করার উদ্দেশে সরিয়ে দিয়েছে। একই সঙ্গে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম প্রধান প্ল্যাটফর্ম ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’-এর উল্লেখযোগ্য স্মৃতিও জাদুঘরে যথাযথভাবে স্থান পায়নি বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি আরও বলেছেন, জাদুঘরে মূলত ঢাকাকেন্দ্রিক ঘটনাবলিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। অথচ দেশের বিভিন্ন জেলা ও প্রান্তিক অঞ্চলের মানুষ জুলাই গণঅভ্যুত্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন এবং তাদের আত্মত্যাগ ও সংগ্রামের স্মৃতিও এই ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ। পাশাপাশি জেন-জি প্রজন্মকে আন্দোলনে উদ্বুদ্ধ করা বিভিন্ন কর্মসূচি ও স্লোগানের অভিনব নামকরণও জাদুঘরে যথাযথভাবে তুলে ধরা হয়নি।
জাতীয় ছাত্রশক্তির সাধারণ সম্পাদক বলেছেন, ‘সার্বিকভাবে বর্তমান জাদুঘর জুলাইয়ের প্রকৃত ও গণ-ইতিহাসের পূর্ণাঙ্গ প্রতিনিধিত্ব করতে পারছে না।’
তিনি অবিলম্বে জাদুঘরটিকে কোনো সংকীর্ণ দলীয় স্বার্থে ব্যবহার না করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে বিগত ১৫ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনের নির্যাতন-নিপীড়নের প্রকৃত দলিল এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানে দেশের প্রতিটি প্রান্তের মানুষের অংশগ্রহণ, আত্মত্যাগ ও সংগ্রামের ইতিহাস সংরক্ষণ করে জাদুঘরটিকে একটি সর্বজনীন স্মৃতিশালা হিসেবে গড়ে তোলার জোর দাবি জানান।




