রথযাত্রায় নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তাব্যবস্থা থাকবে : ডিএমপি কমিশনার

ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ
রথযাত্রায় সুষ্ঠু, সুন্দর ও নিরাপদ পরিবেশে বজায় রাখতে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তাব্যবস্থা থাকবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের আসন্ন রথযাত্রা উপলক্ষে নিরাপত্তা, আইন-শৃঙ্খলা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিষয়ে ডিএমপিতে এক সমন্বয় সভায় কমিশনার এ কথা বললেন।
আজ রবিবার দুপুরে ডিএমপি হেডকোয়ার্টার্সের সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ডিএমপির কমিশনার সভাপতিত্ব করেন।
ডিএমপি কমিশনার বলেছেন, মহানগরীর এই রথযাত্রা একটি বড় শোভাযাত্রা। জনসমাগম বেশি হওয়ায় সবাইকে সর্বোচ্চ সতর্ক ও সচেতন থাকতে হবে। ডিএমপির পক্ষ থেকে থাকবে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তাব্যবস্থা। প্রতিটি বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) সংশ্লিষ্ট রথযাত্রা উদ্যাপন কমিটির সঙ্গে পৃথক সমন্বয় সভা করবেন এবং সার্বক্ষণিক যোগাযোগ বজায় রাখবেন। তিনি সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের আহ্বান জানান।
তিনি বলেছেন, রথযাত্রার সঙ্গে দায়িত্ব পালনকারী স্বেচ্ছাসেবকদের নির্ধারিত ভেস্ট পরিধান করতে হবে। সাদা পোশাকে নিরাপত্তা সদস্য ও লাইনিং ফোর্স মোতায়েন থাকবে। বৈদ্যুতিক লাইনের বিষয়ে সতর্ক থেকে দুর্ঘটনা এড়াতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সচেতন থাকারও আহ্বান জানান তিনি।
কমিশনার বলেছেন, রথযাত্রার প্রতিটি মুহূর্ত আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। ছোট-বড় সব রথযাত্রার জন্যই সমান গুরুত্ব দিয়ে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। সবার সহযোগিতায় উৎসবটি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হবে বলে আমরা আশা করি।
জানা গেছে, সভায় ১৬ জুলাই রথযাত্রা ও ২৪ জুলাই উল্টো রথযাত্রা উপলক্ষে ঢাকা মহানগর পুলিশের পদক্ষেপ ও নির্দেশনা নিয়ে আলোচনা হয়। রথযাত্রায় পিকেট পার্টি, টহল পার্টি, সিসিটিভি ক্যামেরা, ফুট পেট্রোল, রুফটপ পার্টি, হোন্ডা মোবাইল, ডিবি টিম, সাদা পোশাকে গোয়েন্দা টিম, সোয়াট টিম, বোম্ব ডিসপোজাল টিম ও ট্রাফিক পুলিশসহ পর্যাপ্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে বলে সভায় জানানো হয়।
ডিএমপি জানায়, রথযাত্রা নির্ধারিত রুটে ও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শেষ করার বিষয়ে সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এ ছাড়া নামাজ ও আজানের সময় লাউড স্পিকার/মাইক বাজানো থেকে বিরত থাকা, নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ, ব্যাগ-পোঁটলাসহ রথযাত্রায় অংশগ্রহণ না করা, সন্দেহজনক ব্যক্তি বা বস্তু দেখলে পুলিশকে জানানোর অনুরোধ করা হয়।
সমন্বয় সভায় যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (অপারেশনস) মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে সার্বিক নিরাপত্তা পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন। এ ছাড়া, ডিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধি এবং রথযাত্রা উদ্যাপন কমিটির নেতারা মতামত দেন।
সমন্বয় সভায় ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (লজিস্টিকস্, ফিন্যান্স অ্যান্ড প্রকিউরমেন্ট), অতিরিক্ত দায়িত্বে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (অ্যাডমিন) মো মাসুদ করিম, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) মো শফিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (প্রটেকশন অ্যান্ড ডিপ্লোমেটিক সিকিউরিটি) মো আবুল বাশার তালুকদার, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (এস্টেট, ডেভেলপমেন্ট ও আইসিটি), অতিরিক্ত দায়িত্বে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস্) মোহাম্মদ ওসমান গণি, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম) মোহাম্মদ শামসুল হক, যুগ্ম পুলিশ কমিশনাররা, উপপুলিশ কমিশনাররা ও বিভিন্ন পদমর্যাদার কর্মকর্তারা এবং ডিজিএফআই, এনএসআই, এসবি, সিআইডি, দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, ফায়ার সার্ভিসের প্রতিনিধি ও রথযাত্রা উদ্যাপন কমিটির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।




