পল্লবীতে শিশু ধর্ষণ ও হত্যা
রায়ে সাময়িক স্বস্তি, দ্রুত বিচার নিষ্পত্তির দাবি মহিলা পরিষদের

ছবি: আগামীর সময়
রাজধানীর পল্লবীতে আট বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার রায়ে সাময়িক স্বস্তি প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ। একই সঙ্গে সারা দেশে বিচারাধীন নারী ও শিশু নির্যাতন এবং সহিংসতার মামলাগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তির দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
আজ রবিবার বেলা ১১টায় ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেহীন আসামিদের উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন।
রায়ে প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সোহেল রানাকে ৫ লাখ টাকা এবং স্বপ্না আক্তারকে ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছে।
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের আইনজীবীরা শুরু থেকেই পর্যবেক্ষক হিসেবে এ চাঞ্চল্যকর মামলার শুনানি ও বিচারিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেন। রায়ের পর এক যৌথ বিবৃতিতে সংগঠনের সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম ও সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু ট্রাইব্যুনালের এ দৃষ্টান্তমূলক রায়কে স্বাগত জানিয়ে সাময়িক স্বস্তি প্রকাশ করেন।
বিবৃতিতে তারা বলেছেন, সারা দেশের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল এবং শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালগুলোতে ধর্ষণ ও হত্যাসহ হাজার হাজার মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এসব মামলার দ্রুত বিচার ও নিষ্পত্তির বিষয়ে রাষ্ট্র ও সরকারের বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন। তবেই সমাজে প্রকৃত অর্থে স্বস্তি ফিরে আসবে।
পাশাপাশি ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় দেওয়া রায়গুলোর ডেথ রেফারেন্স ও আপিল সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ এবং আপিল বিভাগে দ্রুত নিষ্পত্তির দাবি জানায় সংগঠনটি।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল এবং শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে ধর্ষণ মামলার দ্রুত বিচার-নিষ্পত্তির জন্য আইনে ৯০ দিনের যে সময়সীমা রয়েছে, একইভাবে উচ্চ আদালতেও এ ধরনের মামলার শুনানি, আপিল ও ডেথ রেফারেন্স নিষ্পত্তির জন্য একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা জরুরি।
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের মতে, বিচারিক প্রক্রিয়ার প্রতিটি স্তরে দ্রুততা নিশ্চিত করা গেলে ভুক্তভোগীরা দ্রুত ন্যায়বিচার পাবেন এবং নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনায় বিচারহীনতার সংস্কৃতি কমে আসবে।




