বাসভবনের প্রদর্শনীতে শেখ মুজিবের ছবি কেন? যা বলছেন জামায়াতের আমির

সংগৃহীত ছবি
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের সরকারি বাসভবনে ‘জুলাই এখনো শেষ হয়নি’ শীর্ষক প্রদর্শনী চলছে। সেটিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণ স্থান পেয়েছে। স্থান পেয়েছে ১৯৭০ সালের নির্বাচনকালীন শেখ মুজিবুর রহমানের একটি দুর্লভ ছবি। রেডিওতে ৭০ সালের নির্বাচনের ফলাফল শুনছিলেন শেখ মুজিব। তার পাশে ছিলেন বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ।
এ ছাড়াও রয়েছে মুক্তিযুদ্ধের বেশকিছু ছবি। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কালরাতে পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে নির্মম হত্যাযজ্ঞের ছবি রয়েছে। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে হত্যাকাণ্ডের শিকার এ দেশের অসংখ্য শহীদের ছবি রয়েছে। রয়েছে নিয়াজির রাজাকার ক্যাম্প পরিদর্শনের ছবি। পাকিস্তানের পরাজয়ের ছবি, ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাঙালির বিজয়ের ছবিও রয়েছে।
আরেকটি কর্নারে শেখ মুজিবুর রহমানকে একনায়কতন্ত্র উল্লেখ করে বেশ কিছু ছবি প্রদর্শন করা হয়েছে। যেখানে ১৯৭২ সাল থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন ছবি স্থান পেয়েছে। স্থান পেয়েছে ভারতীয় বাহিনীকে মুজিব যেদিন বিদায় করেছিলেন, সেই ছবিও। শেখ মুজিবুর রহমানের এসব ছবি প্রদর্শিত হলেও মুক্তিযুদ্ধ কর্নারে জিয়াউর রহমানের কোনো ছবি বা উল্লেখযোগ্য কোনো বিষয় ছিল না।
এ বিষয়ে সামাজিক মাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। অনেকেই সমালোচনাও করছেন প্রদর্শনীর এই অংশকে।
তবে অভিযোগকে উড়িয়ে দিয়ে জামায়াত বলছে, শেখ মুজিবের ছবিসংবলিত যে বিলবোর্ড প্রচার করা হচ্ছে, সেটিতে মূলত দেশের ফ্যাসিবাদী শাসনের ধারাবাহিকতার চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। যেহেতু শহীদ জিয়া কর্তৃত্ববাদী শাসক ছিলেন না, সেহেতু সেখানে তার ছবি দেওয়া হয়নি। জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, প্রদর্শনীটি কর্তৃত্ববাদী ও ফ্যাসিবাদী শাসনের ধারাবাহিকতা তুলে ধরার উদ্দেশে আয়োজন করা হয়েছে। জিয়াউর রহমান কর্তৃত্ববাদী শাসক ছিলেন না বলেই তার ভাষণ সেখানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
আজ শনিবার রাজধানীতে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে ‘জুলাই এখনো শেষ হয়নি’ শীর্ষক প্রদর্শনী পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘ইতিহাসে যার যে কল্যাণকর অবদান রয়েছে, তার প্রতি আমরা গভীর শ্রদ্ধাশীল। এ বিষয়ে আমরা নির্মোহ ও বাস্তববাদী থাকার চেষ্টা করেছি। উনি (জিয়াউর রহমান) তো অটোক্রেট শাসক ছিলেন না। যারা কর্তৃত্ববাদী ছিল, যারা আগ্রাসী ছিল, তাদের আমরা এখানে দেখিয়েছি। ইতিহাসের ধারাবাহিকতা তুলে ধরা হয়েছে। আবার যারা মুক্তি দিয়েছেন, ন্যায্যতার ভিত্তিতে যাদের অবদান রয়েছে, সেটাও আমাদের ডকুমেন্টারিতে তুলে ধরা হয়েছে।’
শফিকুর রহমান বলছেন, ‘সাড়ে ১৫ বছর বিভিন্নভাবে মানুষের অধিকার হরণ করার চেষ্টা করা হয়েছে। আমরা আন্দোলন করেছি, দফায় দফায় জীবন দিয়েছি, পঙ্গু হয়েছি, জেলে গেছি, মামলার ভার কাঁধে নিয়েছি। কিন্তু তাতেও বিদায় হয়নি। অবশেষে জুলাইয়ে আবারও মানুষ জেগে উঠল, ছাত্ররা গর্জে উঠল। আন্দোলন দমন করতে গিয়ে ১৫ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রীদের ওপর হামলা চালানো হয়। মেয়েদের গায়ে হাত ওঠার পর মায়েরাও রাস্তায় নেমে আসেন। এরপর আন্দোলন আরও বিস্তৃত হয়। ১৬ জুলাই রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদকে হত্যার মধ্য দিয়ে নতুন করে হত্যাকাণ্ড শুরু হয়। একই সময়ে ঢাকায় দুজন এবং চট্টগ্রামে তিনজন নিহত হন। ১৮ জুলাই থেকে ধারাবাহিকভাবে হত্যাকাণ্ড চলতে থাকে।’
জামায়াত আমির বলেছেন, ‘৩ আগস্ট জাতির ভাগ্য নির্ধারণের একটি সুযোগ তৈরি হয়। সেনাবাহিনীর সাধারণ অফিসার ও জওয়ানরা যখন অস্বীকৃতি জানালেন যে তারা আর জনগণের বুকে অস্ত্র ধরবেন না, গুলি ছুড়বেন না, তখনো শেখ হাসিনা খুনের নেশা থেকে সরে আসেননি। বাহিনীপ্রধানদের তিনি ধমকিয়েছেন, গালিগালাজ করেছেন। তবুও তারা বলেছেন, এখন যদি অস্ত্র ধরি, লাখ লাখ মানুষের জীবন যাবে। কিন্তু তিনি নাকি বলেছেন, যত লাশ ঝরে ঝরুক, ঝরিয়ে দাও, এদের ঘরে ফিরিয়ে দাও। তারা রাজি হননি।’





