জোগান বেশি দাম বেশি আশাও বেশি

ছবি: আগামীর সময়
দৌড়াদৌড়ি... ঠেলাঠেলি... ত্রিপলের নিচে ঠাঁই পেতে হুড়োহুড়ি...। গতকাল রবিবার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে রাজধানী জুড়ে যখন ঝুম বৃষ্টি শুরু, তখন এ চিত্র তেজগাঁও পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট মাঠের পশুর হাটে। জায়গা পাওয়ার যুদ্ধে বেশিরভাগ মানুষ জয়ীও হলেন। তবে কারও মনে পড়ল না অবোধ পশুগুলোর কথা! ভাবখানা এমন যে, পশুর আবার রোদ-বৃষ্টি কী!
কিছু সময় পর যখন বৃষ্টি ধরে এলো, তখন ত্রিপল ছেড়ে ভেজা পশুর পাশে ফিরে এলেন তারা। তাদের কথা, এবার জোগান বেশি, দাম বেশি, আশাও বেশি। সেই আশা ক্রেতা-বিক্রেতা দুই দিকেরই। বিক্রেতার আশা বেশি দামে বিক্রির আর ক্রেতার আশা কম দামে পশু কেনার। পশু ব্যবসায়ীরা জানালেন, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে রাত-দিন ট্রাকে করে আসছে কোরবানির পশু। তেজগাঁও হাটে এবার পশু উঠেছে প্রায় ৬ হাজার।
মিরপুর ইস্টার্ন হাউজিং এলাকার পশুর হাটের চিত্রও একই রকম। নির্ধারিত জায়গা ছাপিয়ে আশপাশের সড়কেও পশুর লম্বা লাইন পৌঁছে গেছে। হাটটিতে পশুর জোগান অনেক বেশি।
দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) বনশ্রী-ডেমরা রোডের পশুর হাটটির নাম মোস্তমাঝি। গতকাল দুপুরে এই হাটে গিয়ে দেখা যায় বিশাল মাঠে পশু বোঝাই। তবে তখনো মাঠ ছাপিয়ে রাস্তায় পৌঁছায়নি পশুর লাইন।
ক্রেতা-বিক্রেতার দরদাম, হাঁকডাক আর পশুর ডাকে মুখরিত ঢাকার প্রতিটি হাট। রাজধানীর কোরবানির হাটের সামগ্রিক চিত্রকে এবার তিনটি প্রধান শব্দে রূপ দেওয়া যায়— প্রচুর জোগান, চড়া দাম এবং খামারি ও বেপারিদের বুকভরা আশা। তবে হরদম বিক্রি এখনো শুরু হয়নি। প্রায় প্রত্যেক ব্যবসায়ী এক বাক্যে জানালেন আনুষ্ঠানিক বিক্রি শুরুর প্রথম দিন বিবেচনায় বেচাকেনা একদমই নেই। হাটে বিক্রেতা আছে, পশুও আছে পর্যাপ্ত। শুধু ক্রেতা নেই।
হাটে ক্রেতার সংখ্যা কম হলেও এবার পশুর সংখ্যা বেশি। আবার দামও অনেক বেশি। বিক্রেতারা জানালেন, গত বছরের তুলনায় এবার ২০০ থেকে ২৫০ কেজির গরুর দাম প্রায় ৫০ হাজার টাকা বেশি। আর এক টনের গরুর দাম বেড়েছে ২ থেকে ৪ লাখ টাকা। ব্যবসায়ীদের অজুহাত, গোখাদ্যের দাম এবার চড়া। ভুসি, খৈল আর খড়ের দাম গত এক বছরে প্রায় দেড় গুণ বেড়েছে। এর ওপর রয়েছে পরিবহন খরচ আর হাসিল। তাই বেশি দামে বিক্রি না করলে লোকসান গুনতে হবে।
তবে বাজার বিশ্লেষকদের মতে, হাটে পশুর জোগান যেহেতু প্রচুর, তাই কোরবানির শেষ দু-তিন দিনে ক্রেতার চাপ বাড়লে দাম কিছুটা সামঞ্জস্যপূর্ণ পর্যায়ে নেমে আসতে পারে। এ ছাড়া এবার রাজনৈতিক সরকার থাকায় কোরবানিও বেশি হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আজ সোমবার থেকে সরকারি অফিস বন্ধ। ফলে পশুর হাট জমে উঠবে বলে আশা ব্যবসায়ীদের।
হাটের এই বিপুল সমাগমকে ঘিরে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন বিশেষ নিরাপত্তা ও সিসিটিভি নজরদারির ব্যবস্থা করেছে।






