সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের সেই আস্তানা ভেঙে ফেলা হচ্ছে

সংগৃহীত ছবি
রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ভবঘুরে রাজিব শাহের গড়ে তোলা স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান চালিয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) ও গণপূর্ত অধিদপ্তর। আজ রবিবার দুপুরে কর্মকর্তারা উদ্যানে গিয়ে স্থাপনাটি ভাঙার কাজ শুরু করেন।
প্রশাসনের উপস্থিতিতে স্থাপনাটির বাঁশ, টিন, কাঠ ও অন্যান্য সামগ্রী সরিয়ে ফেলা হচ্ছে। এ সময় সেখানে উৎসুক জনতা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কনটেন্ট নির্মাতাদেরও ভিড় দেখা যায়।
সম্প্রতি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে রাজিব শাহের গড়ে তোলা একটি বসতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। বাঁশ, টিন, পরিত্যক্ত কাঠ, ইট ও বিভিন্ন ফেলে দেওয়া সামগ্রী দিয়ে তৈরি ওই স্থাপনার পাশে তিনি নামাজের জন্য একটি স্থান তৈরি করেন। সেখানে ইসলামি বইও রাখা ছিল। নিজের এই জায়গার নাম দেন ‘নবাবপাড়া’। পাশাপাশি সেখানে বাগান, ধানক্ষেত এবং বিভিন্ন গাছের চারাও রোপণ করেন।
রাজিব শাহ দাবি করেন, তিনি সেখানে একটি মসজিদ নির্মাণ করতে চান। তার ভাষ্য, ‘এই জমির মালিক আল্লাহ’, তাই সেখানে মসজিদ নির্মাণে বাধা দেওয়ার কারণ নেই।
তবে গণপূর্ত অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান সরকারি সম্পত্তি। অনুমতি ছাড়া সেখানে কোনো ধরনের স্থাপনা নির্মাণের সুযোগ নেই। এর আগে তাকে স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার জন্য মৌখিকভাবে জানানো হলেও তিনি তা সরাননি। পরে উচ্ছেদ অভিযানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এদিকে রাজিব শাহকে ঘিরে স্থানীয়দের পক্ষ থেকে মাদককারবার এবং ধর্মীয় আবেগকে কাজে লাগিয়ে অর্থ সংগ্রহের অভিযোগও ওঠে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রাজিব শাহ। তার দাবি, তিনি কোনো মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত নন এবং মানুষের সহযোগিতায় একটি ধর্মীয় ও মানবিক উদ্যোগ গড়ে তোলার চেষ্টা করেছেন।
অভিযোগগুলোর কোনোটি এখন পর্যন্ত আইনগতভাবে প্রমাণিত হয়নি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এসব অভিযোগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় তদন্তের পরই প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হবে।




