আজিমপুরে পুকুরে ডুবে স্কুলছাত্রের মৃত্যু

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
রাজধানীর লালবাগ থানার আজিমপুর সরকারি কলোনির একটি পুকুরে ডুবে মোহতাসিম হক জাহিম (১৫) নামে এক স্কুলছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। সে বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক কলেজের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
আজ সোমবার বিকাল পৌনে ৩টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। পরে অচেতন অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে বিকাল পৌনে ৪টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে মৃত ঘোষণা করেন।
ঢামেক পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানাকে অবহিত করা হয়েছে।
হাসপাতালে নিয়ে আসা উদ্ধারকারী দলের সদস্য ও একটি প্রতিষ্ঠানের সিকিউরিটি ইনচার্জ আব্দুল কুদ্দুস জানান, বিকালে খবর পান যে বন্ধুদের সঙ্গে পুকুরে নামার পর এক কিশোর তলিয়ে গেছে। পরে তিনি স্থানীয়দের সঙ্গে নিয়ে পুকুরে নেমে কয়েক মিনিট খোঁজাখুঁজির পর জাহিমকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করেন। দ্রুত তাকে ঢাকা মেডিকেলে নেওয়া হলেও চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের বন্ধু মাহির আবরার জানান, দুপুরে জাহিম তাকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে যায়। পরে তারা আজিমপুর সরকারি কলোনির পুকুরপাড়ে যায়। জাহিম সাঁতার জানত না বলে তাকে বারবার পানিতে নামতে নিষেধ করেছিলেন তিনি। কিন্তু নিষেধ উপেক্ষা করে জাহিম পানিতে নেমে পড়ে।
তিনি বলেছেন, ‘পানিতে নামার কিছুক্ষণ পর জাহিম ডুবে যেতে শুরু করে। তাকে টেনে তোলার চেষ্টা করলে সে আমাকে আঁকড়ে ধরে। একপর্যায়ে আমিও পানির নিচে চলে যাই। পরে আমি সাঁতরে ওপরে উঠতে পারলেও জাহিম আর উঠতে পারেনি।’
খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে আসেন জাহিমের বাবা মো. সফিউল হক। জানালেন, দুপুরে ছেলে গরু দেখতে যাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে বের হয়েছিল। পরে খবর পান সে পানিতে ডুবে গেছে। হাসপাতালে এসে ছেলেকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান।
জাহিম হাজারীবাগ পার্ক এলাকার বাসিন্দা মো. সফিউল হকের ছেলে। দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে সে ছিল সবার ছোট। তার অকাল মৃত্যুতে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।






