সংবাদ সম্মেলনে র্যাব
‘কব্জিকাটা আনোয়ার’ গ্রুপের এক্সেল বাবুসহ গ্রেপ্তার ৬

ফরিদ আহমেদ বাবু ওরফে এক্সেল বাবু। ছবি: সংগৃহীত
রাজধানীর আদাবরে পুলিশের দুই কর্মকর্তার ওপর হামলা এবং এক বিকাশ এজেন্টকে কুপিয়ে টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় মোহাম্মদপুরের শীর্ষ সন্ত্রাসী ফরিদ আহমেদ বাবু ওরফে এক্সেল বাবুসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
আজ বুধবার বিকালে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র্যাবের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে র্যাব-২ এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি নাঈমুল হাসান এসব তথ্য জানান।
গ্রেপ্তার অন্যরা হলেন—কব্জিকাটা গ্রুপের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড আবু সাঈদ, রাশেদ, খন্দকার মোহাম্মদ মিল্টন, মো. তোসির ও তারিকুল ইসলাম।
র্যাবের দাবি, কব্জিকাটা গ্রুপের প্রধান আনোয়ার এবং বর্তমান সেকেন্ড-ইন-কমান্ড আবু সাঈদের ‘গুরু’ হিসেবে পরিচিত এক্সেল বাবু। তার আশ্রয়-প্রশ্রয়ে গ্রুপটি ছিনতাই, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিল। গতকাল মঙ্গলবার রাতভর রাজধানীর মোহাম্মদপুর, আদাবর ও মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় ছিনতাইয়ের কাজে ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল, চাপাতি ও কয়েকটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।
নাঈমুল হাসান বলেছেন, ‘গত ১৬ জুন বিকেল ৪টা ৫০ মিনিটের দিকে আদাবর থানার শেখেরটেক-৭ এলাকায় একটি বিকাশের দোকানে ঢুকে সশস্ত্র ছিনতাইকারীরা বিকাশ এজেন্টকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। পরে তারা প্রায় তিন লাখ টাকা ও একটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়।’
ঘটনার পর তথ্যের ভিত্তিতে আদাবর থানা পুলিশ তুরাগ হাউজিং এলাকায় অভিযান চালালে ছিনতাইকারীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে পুলিশের ওপর হামলা চালায়। হামলায় আদাবর থানার ওসি জাইদুল ইসলাম এবং এসআই তরুণ গুরুতর আহত হন। এ সময় আত্মরক্ষার্থে পুলিশ পাল্টা গুলি চালালে আমির ও রুবেল নামে দুই ছিনতাইকারী গুলিবিদ্ধ হয়। পরে অভিযান চালিয়ে আমির ও রুবেলসহ মোট ছয়জনকে আটক করে পুলিশ।
র্যাব জানায়, ঘটনার পর চক্রটির মূলহোতা ও অন্যান্য সদস্যদের গ্রেপ্তার এবং অস্ত্র উদ্ধারের লক্ষ্যে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়। এর ধারাবাহিকতায় ১৬ জুন মধ্যরাতে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে র্যাব-২ রাজধানীর মোহাম্মদপুর ও মিরপুরের পীরেরবাগ এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে এক্সেল বাবুসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে।
কব্জিকাটা গ্রুপের সঙ্গে এক্সেল বাবুর সম্পৃক্ততার বিষয়ে নাঈমুল হাসান বলেছেন, ‘এক্সেল বাবু নিজেই এই গ্রুপের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন। তিনি কব্জিকাটা গ্রুপের প্রধান আনোয়ার ও আবু সাঈদের গুরু। এক্সেল বাবুর মতো পৃষ্ঠপোষকদের গ্রেপ্তার না করা গেলে এ ধরনের গ্যাংগুলো সক্রিয় থাকবেই। এ কারণেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আরও সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।’
তিনি বলেছেন, ‘আনোয়ার গ্রেপ্তারের পর আবু সাঈদ কার্যত গ্রুপটির নেতৃত্ব দিয়ে আসছিলেন।’
ছিনতাইকারী ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোকে দ্রুত বিচারের আওতায় আনার বিষয়ে র্যাবের পদক্ষেপ নাঈমুল হাসান বলেছেন, ‘সম্প্রতি রামিসা হত্যা মামলার বিচার দ্রুত সম্পন্ন হওয়ার একটি উদাহরণ তৈরি হয়েছে। একইভাবে ছিনতাইকারী ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর বিচারও দ্রুততম সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করা গেলে সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাবোধ আরও বাড়বে।’
তিনি বলেছেন, ‘আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অপরাধীদের গ্রেপ্তার ও তদন্তের কাজ করে। তবে পুরো বিচারপ্রক্রিয়া ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থার বিভিন্ন অংশের সমন্বয়ে সম্পন্ন হয়। সংশ্লিষ্ট সবাই এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিলে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আরও ইতিবাচক ফল পাওয়া সম্ভব।’




